শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবরোধ, যানজটে দুর্ভোগ

সামুদ্রিক মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
982

সামুদ্রিক মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শাহ আমানত সেতু এলাকার গোলচত্বরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করায় চারদিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সরকার বলেন, সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে জেলে পরিবার, বোট মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। আমরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। অবরোধ চলাকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুট থেকে আসা যানবাহনগুলো সেতুতে আটকে যায়। সেতুর মাঝামাঝি স্থান পর্যন্ত দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে মেরিনার সড়কের চাক্তাই নতুন মৎস্য আড়ত পর্যন্ত গোল চত্বরমুখী যানবাহন, গোল চত্বর থেকে চালপট্টি মোড়, চট্টগ্রাম-কঙবাজার সড়কের বহদ্দারহাট রুটে রাজাখালী সেতুর আগ পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। এতে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তীব্র গরমে নাভিশ্বাস উঠে অনেকের।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবরোধে অংশ নেওয়া মহিলাদের পাশের বাস্তুহারা বস্তি থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবরোধ শেষে এসব মহিলাদের দলবেঁধে বস্তির দিকে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বস্তির মহিলাদের মৎস্যজীবী সাজিয়ে মূলত বোট মালিকরাই তাদের নিয়ে এসেছেন।
তবে অবরোধ কর্মসূচিতে ভাড়ায় বস্তির মহিলাদের নিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেন বাবুল সরকার। তিনি বলেন, অনেকে মাছ কিনে বিক্রয় করেন। অনেকে ছোট নৌকায় নদীতে মাছ শিকার করে সংসার চালান। যারা মাছ ব্যবসা ও শিকার করেন তাদের স্ত্রী সন্তানেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
অবরোধ চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগর মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বোট মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এম এ গাফফার, হেমায়েত হোসেন মিন্টু, ফজল আহমদ প্রমুখ।
অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, কোনো অবরোধ হয়নি। মৎস্যজীবীরা কিছুক্ষণ মিছিল-মানববন্ধন করেছেন। এতে কিছুটা যানজট তৈরি হয়েছিল। মিনিট দশেক পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

x