শাহিদ আনোয়ারের কবিতা

শুক্রবার , ৮ জুন, ২০১৮ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
33

বেহিসাবি হিস্যা

রক্তমাংসে বেহিসাবি; এই নাও তার হিস্যা

দুর্ভাবনার তারাবাতি জ্বলতে দিলাম আত্মায়

এটাই ছিলো দৃষ্টিগ্রাহ্য ভ্রান্ত রণকৌশল

ভুলবানানে নিন্দা করার মওকা পেলে শিষ্যা।

চোখের মধ্যে পুড়তে দিলাম দূর গগনের ইঙ্গিত

গল্প থেকে কুড়িয়ে দিলাম ব্যর্থ রাতের কষ্ট

এসব ছিলো ক্রমশ এক ভুলের শেকড় বিস্তার

আপন হাতে বানিয়েছিলাম দুঃখ রাখার পাত্র।

রক্তমাংসে বেহিসাবি; এই নাও তার হিস্যা

অজ্ঞানতার তারাবাতি জ্বলতে দিলাম আত্মায়

এসব ছিলো বস্তুত এক পুঞ্জিভূত স্বপ্ন

দিনের আলোর বাস্তবতায় যার থাকে না সত্তা।

নিজের হাতে বানিয়েছিলাম পাথর খোঁড়ার অস্ত্র

রক্তে আমার তৃষ্ণা হঠাৎ জাগলো তোমার, ভদ্রে

যা করেছি ঠিক করিনি, অনন্য এক ভ্রান্তি!

একবিংশের কৃষ্ণা

কেনো এমন দহন দাও

বুকের কাঁপন সাক্ষী

কাঁটাতারের বাধার জন্যে

নষ্ট হলো অক্ষি।

ফুলের মধ্যে নরক পোড়ে

পানির মধ্যে তৃষ্ণা

নষ্ট বাঁশি ফুঁ দিয়ে যায়

একবিংশের কৃষ্ণা।

প্রপঞ্চ

কবিতা অমৃত বুকে ছুঁয়েছি গোলাপি ওই বুক

মিলন আমৃত্যু থাক, মৃত্যুকেই পাঠাব কবরে

দু’জন দু’হাতে লাল ফুটিয়েছি প্রেমের কিংশুক

একথা মন্ত্রদাতা ঈশ্বরীও ভোলেন কী করে?

আরাদ্ধ যতো না কাজতালিকায় প্রথমেই চুম্বন

কবিতা গরলে কথা সত্যি হয়ে ফুটে থাকে ফুলে

নেই বিবমিষা কোনো, উড়িতেছে ইন্দ্রিয়জনন

আমাকে বরণ করে উত্তাল দরোজাখানি খুলে।

প্রপঞ্চ কামের দেবী তারা হয়ে আকাশে ভাসেন

তারই প্ররোচনাতীরে বিদ্ধ এই মানবমানবী

কলিজায় বিদ্ধ হয়ে যে রমণী লুকিয়ে আছেন

তারই হাতে প্রজ্ঞাপণ, মন্ত্রদাত্রী ঈশ্বরীর ছবি

নিরন্তর সাক্ষী আমি, নিরবধি বহে কর্ণফুলি

তারও বেশি সাক্ষী হয়ে উড়ে যাচ্ছে রঙিন কাঁচুলি।

বিজ্ঞাপন কন্যা

দেখেছি তোমার ছবি বিজ্ঞাপনী পটে

কী দারুণ প্রত্যয়ী, দারুণ দাপুটে

ফুটেছে বিদেশী ফুল বাংলার বনে

দু’ আঁখি বন্ধ ঠোঁটরঞ্জক সনে।

অদ্ভুত চামড়া তোর না কালো না সাদা

অনেক বিজ্ঞাপনে দারুণ আলাদা

ল্যাকমে লিপস্টিকের এই বিজ্ঞাপনে

তোমার আমার সখ্য লজ্জা বিহনে।

চুলের উপরি ভাগে লাল ফুলের বন্যা

লহো প্রেমাগ্নি কিছু ও বিদেশী কন্যা।

x