শাস্ত্রীয় সংগীতের আবেশ ছড়ালো শিল্পী লিটন দাশ

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
46

সকল সংগীতের মূলভক্তি হল শাস্ত্রীয় সংগীত বা উচ্চাঙ্গ সংগীত। শাস্ত্রীয়সংগীত মানুষকে অনাবিল আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মনকে সমৃদ্ধ করে। শুদ্ধ সংগীত চর্চায় শাস্ত্রীয় সংগতিের কোন বিকল্প নেই। গত ২৪ মে শুক্রবার বিকাল ৫টায় নগরীর নন্দনকানন, (ফুলকি) এ.কে. খান মিলনায়তনে শ্রুতিঙ্গন বাংলাদেশের পরিচালক শিল্পী লিটন দাশ শাস্ত্রীয় সংগীতে একাই মঞ্চে আবেস ছড়ান। চট্টগ্রামে শাস্ত্রীয়সংগীত জগতে শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া শিল্পী ও শ্রুতিঅঙ্গনের সংগীত শিক্ষক লিটন দাশ’র জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর ছাত্রদের সংগঠন শ্রুতিঙ্গন বাংলাদেশ স্টুডেন্টস্‌ ফোরাম সম্প্রতি একক শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
শান্তুনু মিত্র ও বীথিকা বসাকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন লায়ন ডা: শ্রীপ্রকাশ বিশ্বাস। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রুতিঙ্গনের সভাপতি প্রফেসর বেণু কুমার দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। দুই পর্বে সাজানো আয়োজনে প্রথম পর্বে ছিলো আলোচনা আর দ্বিতীয় পর্বে ছিলো শিল্পী লিটন দাশের একক শাস্ত্রীয়সংগীত ও নজরুল সংগীত পরিবেশনা।
কথামালায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লায়ন ডা: শ্রীপ্রকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘গত ৮ মার্চ শ্রুতিঙ্গণের সম্মেলনে গিয়ে দেখি যেখানে নতুন প্রজন্ম পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনে মত্ত সেখানে লিটন দাশ গত ৮ বৎসর যাবৎ কি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে চট্টগ্রামে শাস্ত্রীয়সংগীত চর্চা অব্যাহত রেখেছেন এবং সেখানে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আগ্রহী করে তুলেছেন।’ অন্যদিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রুতিঙ্গনের সভাপতি প্রফেসর বেণু কুমার দে লিটন দাশ’র জন্মদিন একক সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজনে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্যমণ্ডিত দীর্ঘায়ু ও সুদীর্ঘ সংগীত জীবন কামনা করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘সকল সংগীতের মূল হচ্ছে শাস্ত্রীয় সংগীত জেনেও আমরা এর চর্চায় তেমন আগ্রহী হই না, কারণ এর সাধনা কষ্টসাধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী। আমরাতো সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে গান শিখে টেলিভিশনে যেতে চাই। এর বিপরীতে লিটন দাশ’র মত মানুষরা কাজ করে চলেছেন কোন প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে যা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জ্বলন ও তাঁর ছাত্রছাত্রীরা পটদ্বীপ রাগপ্রধান গান পরিবেনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। এরপর একক পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী লিটন দাশ। তিনি শুরুতে রাত্রি ১ম প্রহরের রাগ ইমন পরিবেশন করেন। একতালে বিলম্বিত ও দ্রুত ত্রিতালে খেয়াল পরিবেশনায় দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন। আলাপ, বিস্তার, তাল, বোলতাল, পরিবেশনায় তাঁর নিয়মিত রেওয়াজের ছাপ পাওয়া যায়। এরপর একটি হিন্দী ভজন পরিবেশন করেন, সেটি হল ‘অচ্যুতম কেশবম কৃষ্ণ দামোদরম’।
সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের রচনায় পরপর ৩টি বাংলা গজল, দরবারী রাগে, ভালো লাগা আবেগ বন্দী করে রাখতে বল না, পিলু রাগে, মানুষের সাহায্যে প্রসারিত হাত যার মরণের পরেও মৃত্যু হয় না তার, মাজ খাম্বাজ রাগে, ফুল বলে আমি শ্রেষ্ট সৌরভ বলে আমি। এরপর ঠুমরী, জোছনা করেছে আড়ি আসে না আমার বাড়ি, বসন্ত-বাহার রাগে রাগ প্রধান গান, সুর না সাজে ক্যায়া গাউমে, দরবারী রাগে দাদরা; ঝনক ঝনক তোরি বাজে পায়েলিয়া, কিরোয়ানী রাগে; কাজরী বর্ষণ লাগী সাবন বোঁধিয়া রাজা’ সহ বেশ কিছু ঠুমরী পরিবেশন করেন।
বিরতির পর আসেন লিটন দাশ। নজরুলের আধুনিক পর্যায়ের, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ, ফিরিয়া যদি সে আসে, সবশেষে একটি হিন্দী ভজন সুমিরাম করলে মেরে মনা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রায় আড়ায় ঘণ্টা সংগীত পরিবেশনা শেষ করেন। অনবদ্য পরিবেশনা দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। দর্শক এই সুন্দর আয়োজনের জন্য শ্রুতিঙ্গন বাংলাদেশ স্টুডেন্টস্‌ ফোরামের সকলকে ধন্যবাদ জানান। পুরো আয়োজনে শিল্পীর সাতে যন্ত্রানুসঙ্গে সহযোগীতা করেন বেহালায়-শ্যামল চন্দ্র দাশ, তবলায়-সমীর আচার্য (কোলকাতা), জয়প্রকাশ ভট্টাচার্য, কিবোর্ডে- নিখিলেশ বড়ুয়া, অক্টোপ্যাড- সুমন দাশগুপ্ত, তানপুরায়- অপর্ণা শীল, হারমোনিয়ামে- সৈকত দত্ত।

x