শারীরিক সুস্থতায় রমজান

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৬ মে, ২০১৮ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
35

সুস্থ থাকতে পরামর্শ

দিনের বেলা রোজা রাখা অবস্থায় কোনো মতেই ব্যায়াম করতে যাবেন না। অনেকে রোজার সময় রোজা রেখে দিনের বেলাতে ব্যায়াম করেন, এটি একেবারেই করতে যাবেন না। কারণ এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই যারা ব্যায়ামবিদ বা ব্যায়াম করতে আগ্রহী তারা ইফতারি করার কমপক্ষে ১ ঘণ্টা বা তার থেকে বেশি সময় পর ব্যায়াম করুন, এবং অনেকে ইফতারির পর পর জিমে ব্যায়াম করতে আগ্রহী। তাই আমার মতে ইফতারির কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর ব্যায়াম করা যাবে তবে সামান্য ইফতারি করে তারপর কিছু সময় পর ব্যায়াম করুন। এছাড়া বেশি ইফতারি (পেট ভরে) না করেও আপনি ব্যায়াম করতে জিমে আসতে পারেন। যারা জিমে গিয়ে করতে চান না তারা হাঁটতে পারেন ২০৩০ মিনিট, স্থির সাইকেল চালাতে পারেন বা ক্রস ট্রেইনি। আমার মতে আপনাকে অবশ্যই ইফতারির কিছু সময় রেস্ট নিয়ে ব্যায়াম করা বেশি ভালো কারণ সারাদিন রোজা রাখার পর আপনার শরীর ক্লান্ত, এছাড়া আপনি ইফতার করার পর পর কখনও জিমে এসে ব্যায়াম করতে মনে চাইবে না। তবে আপনার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে তবে করতে যাবেন। যারা জিমে ব্যায়াম করবেন তাদের জন্য এধরনের নিয়ম। কিন্তু আপনি যদি কোন ডায়াবেটিস, হার্ট বা অন্যন্যা রোগে ভুগে থাকেন বা স্থূলকায় হন তবে, নামাজ পড়ে বা নামাজের পূর্বে সময় করে করতে পারেন। আপনার হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইকেল ও খালি হাতের ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া আমাদের দেশের মানুষেরা একটি ভুল ধারণা নিয়ে আছেন, সেটি হলো বয়স একটু বেড়ে গেলে আমি বুঁড়ো হয়ে বা মুটিয়ে গেছি নানা চিন্তা করি আমার আবার ব্যায়াম কি জন্য? কিন্তু অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনার বয়স যত বাড়ছে তত আপনার শরীরের জন্য ব্যায়াম খুব দরকার। তাই সময় পেলে লেগে পডুন ব্যায়ামে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে রোজার দিনে একটু ব্যস্ত থাকতে হয় কারণ ঘরের কাজের জন্য। তারপরও সময় নিয়ে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এছাড়া ব্যায়ামের অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি কিনতে পাওয়া যায় বাজারে। তবে জিমে এসে ব্যায়াম করা গেলে সবচেয়ে ভালো।

রোযা অবস্থায় ফিজিওথেরাপি নিতে চাইলে

অনেকে আছেন বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়ে থাকেন সুস্থ থাকার জন্য। রোযা অবস্থায় আপনি চাইলে যে কোনো ধরনের থেরাপি নিতে পারেন। এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। ইলেট্রো থেরাপি বা এক্‌্রারসাইজ থেরাপিও নিতে পারেন। কারণ যেকোনো থেরাপি নেওয়ার সময় আপনার শরীর বেশি ক্লান্ত হবে না। সুস্থ থাকতে যেকোন ধরনের থেরাপি নিতে পারেন।

প্রশিক্ষকের মন্তব্য

সারাদিন রোজা রেখে সঙ্গে সঙ্গে জিমে বা যে কোন ধরনের ব্যায়াম করতে যাবেন না। কমপক্ষে ১৩০ মিনিট পর বা (তার থেকে বেশি হলে ভালো হয়) ব্যায়াম করা যাবে। ব্যায়াম কমিয়ে করার অভ্যাস করুন রোজার দিনে। সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে রোজার সময়ে হেভি ওয়েটের ব্যায়াম করতে যাবেন না, এতে শারীরিক সম্যসা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যখনই ব্যায়াম করেন, শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়। ইফতারে ও তারপর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ব্যায়ামের পর খনিজ উপাদান ও লবণসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে পারেন। হৃদরোগী ও ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা এ বিষয়ে চিকিৎকের পরামর্শ নিন।

x