শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতায় যোগাসন

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৯ জুন, ২০১৯ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
83

গত ২১ জুন ছিল বিশ্ব যোগাসন দিবস। প্রতিবছরের মতো এবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে যোগাসন অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারে সবার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সময়, বয়স, ছোট-বড় সবাই এক সাথে যোগাসনে উপস্থিত হয়। সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডার বা মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে যোগাসনের যে একটা বড় ভূমিকা আছে তা অনেক আগে থেকেই জানা, যেহেতু ডাক্তাররা স্ট্রেস ডিসঅর্ডার সামলাতে বহুকাল ধরে যোগের সাহায্য নিয়েছেন। যদিও শেষ দুই দশক ধরে যোগের এই ভূমিকার পেছনে বৈজ্ঞানিক রাস্তা ও আধুনিক গবেষণা, যোগাসনের ক্ষেত্রে নবজাগরণ ঘটিয়েছে বলা যেতে পারে। যোগাভ্যাস, একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতার উন্নতির কারণ বলে পরিচিত। মনবিজ্ঞানে কিছু কিছু অসুস্থতা, যেমন অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, অনিদ্রা এই সব রোগের জন্য যোগাসনকে একমাত্র বা সাহায্যকারী চিকিৎসা পদ্ধতি বলে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কিছু মানসিক অসুস্থতা যেমন স্কিৎজোফ্রেনিয়া, বাচ্চাদের অ্যাটেশন ডেফিসিট হাইপার-অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যার চিকিৎসায় যোগাসন খুবই উপযোগী বলে দেখা গেছে।
যোগাভ্যাসের ফলে অবসাদের রোগীর ব্যবহারে পরিষ্কার উন্নতি, স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীর ক্ষেত্রে মানুষের আবেগকে বোঝার ক্ষমতার উন্নতি, বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্মৃতি শক্তি, ঘুম ও জীবন যাত্রায় উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিত যোগাভ্যাসের ফলে ‘স্ট্রেস হরমোন’ কটিসল এর পরিমাণ কম নিঃসৃত হয় আর ‘কাডল হরমোন’ অঙিটনিক এর পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ব্রেনের প্লাস্টিসিটির মাপকাঠি যেমন ব্রেন ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বি ডি এন এফ) বেড়ে যায়। যার ফলে মস্তিষ্কের অবক্ষয় আটকানো যায়, এমনকি বয়স্কদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্মৃতি শক্তির অংশ বা হিপোক্যাম্পাস এর পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। একজন সুস্থ মানুষের নিউরো ইমেজিং স্টাডিতে দেখা গেছে যে, ওম মন্ত্রের জপ মানুষের মনের যে অংশ আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই অংশের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা থেকে বোঝা যায় যে, এই মন্ত্রের জপ করলে আবেগের বহিঃপ্রকাশ অনেকটাই কমিয়ে মানুষকে শান্ত করে তোলে। তাই প্রতিদিন ১০-২০ মিনিট যোগ আসন বা ইওগা অভ্যাস করুন।

x