শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হোক একাদশ সংসদ নির্বাচন

রবিবার , ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
25

আজ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত একাদশ সংসদ নির্বাচন। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনগণের আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেশকে মাতোয়ারা করে তুলেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, একাদশ নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। গত দশ বছরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ। এদের কেউ কেউ ২০১৪ এর দশম নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। সব আসনে ভোট না হওয়ায় কেউ কেউ আবার ভোট দিতে পারেনি। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার। হিসাব মতে মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তরুণ ভোটারের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রতিটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনী প্রচারণায়, ইশতেহার ঘোষণায় সব দলই তরুণদের চাওয়া পাওয়ার বিষয়ের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেননা, তরুণদের ভোটে ভরসা করে নির্বাচনে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল। বলা বাহুল্য, এ বছর নতুন ভোটার- যাঁরা প্রথমবারের মতো ভোট প্রদানের সুযোগ পাবেন, নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে এঁরাই হবেন বড় ফ্যাক্টর। প্রজম্মের চিন্তাভাবনা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে বলে অনেকের ধারণা।
ভোটারের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলেও নানা প্রতিকূলতা কিংবা অনাগ্রহের জন্য কোনো নির্বাচনে একত্রে ৯০ শতাংশ ভোটার কখনোই অংশগ্রহণ করেনি। সংবিধানের বিধি অনুসারে একাদশ সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হতে চলেছে। কিন্তু সব কিছুর আড়ালে কারো কারো মনে একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এবারের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তো? শৃঙ্খলাবদ্ধ ভোট কেন্দ্র পাব তো? নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে তো? অতীতের দলীয় নির্বাচনের ইতিহাসগুলো মানুষদের একটু হলেও ভাবিয়ে তোলে।
নির্বাচনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের দুর্বলতা একটি সুবিদিত বিষয়। জাতীয় নির্বাচন হোক আর স্থানীয় নির্বাচন হোক ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করে উৎসবী মেজাজে মেতে ওঠে বাংলাদেশের মানুষ। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির হারও পশ্চিমা দুনিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। শিক্ষাদীক্ষা ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ দেশের মানুষ যে এগিয়ে তা স্বীকার করতেই হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উৎসবী হাওয়া বিরাজ করেছে, তা এককথায় নজিরবিহীন।
নির্বাচনকালে পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ভূমিকা পালনের অবকাশ রয়েছে। সহজে এবং দ্রুত এসব মাধ্যমে কোনো ঘটনার ব্যাপক প্রচার সম্ভব বলে তা অনিয়ম ও কারচুপির পথে বিরাট প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের মানুষ শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শাসক দলের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করার সুযোগ পায়। সেটিও ৫ বছরে মাত্র একবারের জন্য। এটি না হলে দেশে কুশাসন, অরাজকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সীমাহীন পর্যায়ে চলে যাবে, বাংলাদেশের অন্তর্নিহিত শক্তি আরও হ্রাস পাবে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই উপলব্ধি সবার মধ্যে যেন জাগ্রত থাকে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী শারমিন মুরশিদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমাদের শেষ পর্যন্ত আশাবাদী থাকতে হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে। ফলে আমরা দেখতে চাই যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ও শান্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সে কারণে আশাবাদের ওপর ভরসা রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা সবাই জানি যে সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের একধরনের ভরসা ও আস্থা কাজ করে।
এভাবেই নির্বাচনী লড়াইয়ের নানা অভিযোগ সত্ত্বেও পূর্বপ্রস্তুতি বেশ জমজমাট ছিল। নির্বাচন কমিশনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেছে সময়ে সময়ে। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেই ব্যবস্থার যাবতীয় প্রয়াস আমরা লক্ষ্য করেছি।
আমরা চাই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। এখানে বলা দরকার, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। এ স্থিতিশীলতা টেকসই হতে পারে গণতন্ত্র অনুশীলনের মাধ্যমে। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ যেমন আমাদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনি নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিষয়ে আমরা আশাবাদী হতে চাই। উচ্ছ্বাস উৎসবে শেষ হোক জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সে প্রত্যাশা আমাদের।

Advertisement