শান্তনু দা

শৈবাল চৌধূরী

মঙ্গলবার , ২৩ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
46

শান্তনুদার সঙ্গে শেষ দেখা ২৮ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে। সেদিন বিকেলে ছিল তাঁর নাট্য দল কালপুরুষের নাট্যোৎসব ২০১৯-এর উদ্বোধন এবং শান্তনুদার নতুন নাটক ‘নির্ভার’-এর প্রথম প্রদর্শনী। ১৯ বছরের বিরতির শেষে শান্তনুদা আবার ফিরে এসেছিলেন। এই বিরতিতে অবশ্য তিনি নিশ্চুপ ছিলেন না। তিনি মেতেছিলেন গান নিয়ে। গান লেখা, সুর করা আর গাওয়া। একটার পর একটা অ্যালবাম বের করা। দেশে বিদেশে গানের অনুষ্ঠান। মঞ্চে টিভিতে এফএম রেডিওতে। এক কথায় সঙ্গীতে রীতিমত মশগুল ছিলেন এই সময়টায়। আমরা ভেবেছিলাম নাটক বুঝি ছেড়েই দিলেন তিনি। অবশ্য আমরা তাঁর অভিনয়ের ব্যাপারটা মাথায় রেখে কথাটা বলতাম। কারণ এ সময়ে তিনি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন, লিখেছেনও। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে মঞ্চে আসেননি। ২৮ জুনের বিকেলে নাটক শুরুর আগে কথাগুলো তাঁর সাথে আলাপ হচ্ছিল। দেখেছিলাম সত্যিই তিনি নির্ভার ছিলেন। দীর্ঘ বিরতিজনিত কোন টেনশন দেখিনি সেদিন। দুর্দান্ত অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন। ছিমছাম সেট, অত্যন্ত পরিমিত মেকআপ, আলোর ভিন্নরকম প্রয়োগ, তিনটি মাত্র চরিত্র নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা ছিল নাটকটিতে। শান্তনুদা আন্ডার টোনাল এক অসাধারণ অভিনয় সেদিন করেছিলেন তাঁর জীবনের শেষ নাটক ‘নির্ভার’- এর প্রথম এবং শেষ অভিনয়ে।
সোয়ান সঙ- বলে একটা বিষয় আছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে। অর্থাৎ একজন শিল্পীর শেষ কাজ। খাঁটি শিল্পীদের ক্ষেত্রে শেষ কাজটি নাকি খুব ভালো হয়। শান্তনুদার সোয়ান সঙটাও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শান্তনু বিশ্বাস একজন বহুমাত্রিক শিল্পী। ভার্সেটাইল জিনিয়াস যাঁদের বলা হয় তিনিও তেমনি ছিলেন। চট্টগ্রামে থাকার কারণে উপযুক্ত প্রচার প্রচারণা খ্যাতি প্রণোদনা পান নি। মৃত্যুর পরও উপযুক্ত মিডিয়া কভারেজ তিনি পান নি।
শান্তনুদা নিজেও ছিলেন ভীষণ অন্তর্মুখীন। নিজের সম্পর্কে কথা বলতেন অতি ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে। সঙ্গীতের তিনটি পর্যায় অর্থাৎ গীত রচনা, সুরারোপ এবং কণ্ঠ তিনটিতেই সাবলীল ছিলেন। নাটকেও রচনা, নির্দেশনা এবং অভিনয় তিনটিতেই সমান দক্ষতা। কথক হিসেবেও ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। এত মার্জিত ও সুন্দর শব্দ চয়নের মাধ্যমে প্রমিত বাংলায় শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতেন, শুনতেই ভালো লাগতো। মানুষটির আরেকটি বড় গুণ ছিল ভদ্রজনোচিত আচরণ। চলনে বলনে এত স্মার্ট এই লোকটির মধ্যে আত্মম্ভরিতার লেশমাত্র দেখিনি। সব সময় নানারকম সৃষ্টিশীল চিন্তা চেতনা আর পরিকল্পনায় উজ্জীবিত থাকতেন। নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হয়েও এতটুকু উচ্চকিত হতে দেখিনি। অনেকেই তাঁর এই পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। মৃত্যুর পর নিজের দেহটি যে মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন সেটাও কেউই জানতেন না পরিবারের লোকজন ছাড়া। হয়তো আর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানতেন।
শান্তনু দার ডাক নাম শামু। ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই শামুদা বলে ডাকতেন। আমার সঙ্গে যোগাযোগ চলচ্চিত্র সংসদ চর্চার সূত্রে ১৯৮১ সালে। তিনিও সংযুক্ত ছিলেন এই চর্চায় নিয়মিতভাবে। নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। এই সংযোগ তাঁর আজীবন অক্ষুণ্ন ছিল। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে প্রায় নিয়মিতভাবেই উপস্থিত থাকতেন। ছবি দেখার পর বিস্তারিত আলাপ করতেন। বেশির ভাগই টেলিফোনে। প্রায় সময়েই টেলিফোনে কথা হতো। মধ্য রাতে অনেকক্ষণ কথা হতো আমাদের নাটক সঙ্গীত চলচ্চিত্র নিয়ে। তবে বেশি আলাপ করতেন সঙ্গীত বিষয়ে। নিজের গানগুলো নিয়ে খুব বেশি মমতা ছিল তাঁর। নানাভাবে গানগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতেন। খোলাপিঠ নামে একটি গানের বইও প্রকাশ করেছিলেন খড়িমাটি প্রকাশন থেকে। মাঝে মধ্যে যখনই তাঁর গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো দেখতাম অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে যন্ত্রী ও শব্দের কুশলীদের নিয়ে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে বারবার আলোচনা ও প্রস্তুতি নিতে থাকতেন। আর বাসায় ক’দিন ধরে রিহার্সাল তো করতেনই। চারটি একক ও দুটি যৌথ অ্যালবাম রয়েছে তাঁর। তাঁর কম্পোজিশনে গান করেছেন সুবীর নন্দী, ইন্দ্রানী সেন, ফাতেমা তুজ জোহরা, বাপ্পা মজুমদার প্রমুখ। হৈমন্তী শুক্লার সঙ্গে একটি অ্যালবাম করার কথা ভাবছিলেন। নিজের অ্যালবামগুলোর মধ্যে ‘চিরকুট’ ছিল তাঁর খুব পছন্দের। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই অ্যালবামের গান বেশি গাইতেন। নিজেকে বলতেন গানের ফেরিওয়ালা। আজাদীর পাতায় তাঁর গান নিয়ে কয়েকবার লেখার অবকাশ পেয়েছিলাম। ২১ সেপ্টেম্বর খড়িমাটির উদ্যোগে তাঁর গানের আরেকটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে।
১৯৮০ এর দশকের শুরুতে চট্টগ্রাম শহরে হাতেগোনা কয়েক জন চলচ্চিত্র রসিকের বাড়িতে ভিসিআর ছিল। তাঁদের একজন শান্তনুদা। সার্সন রোডে তাঁর ইস্পাহানী কোয়ার্টারের বাসায় মাঝে মধ্যে আমরা দল বেঁধে ভিসিআরে সিনেমা দেখতে যেতাম। ভালো কোন ছবির ক্যাসেট পেলে তিনি খবর দিতেন। ছবি দেখার শেষে দীর্ঘক্ষণ ছবি নিয়ে আলাপ হতো। খাওয়া দাওয়াতো হতোই। তখন দেখতাম সিনেমা বিষয়ে কি আগ্রহ এবং অনুধাবন তাঁর ছিল। পরবর্তী সময় এটা আরো ভালোভাবে দেখার সুযোগ হয়। কোন একটি সিনেমা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিকভাবে তিনি বিশ্লেষণ করতেন। খুব খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। চ্যাপলিন ও তারকোভস্কির সিনেমার খুব ভক্ত ছিলেন। মজার ব্যাপার দু’জন দুই ঘরানার চলচ্চিত্রকার। পরবর্তী সময়ে ঋতুপর্ণ ঘোষেরও অনুরাগী হয়ে উঠেছিলেন। আরেকজনকে দেবতার মতো জ্ঞান করতেন শান্তনু দা, তিনি ঋত্বিক ঘটক। বলতেন এরাই দেবতা, মানুষের জন্যে ভেবেছেন, দেবতারা আকাশে থাকেন না, থাকেন মাটিতে। ভবঘুরে নাটক ভাবনাটি নিয়েছিলেন চার্লস চ্যাপলিনের ছবি ভ্যাগাবণ্ড থেকে। নাটকটি লিখবার সময় অনেক আলাপ হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। শান্তনু বিশ্বাস শো বিজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মূলত ছিলেন নিভৃতচারী। অন্তমুর্খীন ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ। সৎ নিষ্ঠ একজন শিল্পী। জাহিরি মানসিকতা কখনোই ছিল না তাঁর মধ্যে। ৬৫ বছরের জীবনে অনেক কাজ করেছেন। ১৭ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলা সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন কলকাতায়। বড় ভাই অতনু বিশ্বাস ১৯৭১ এর শহীদ। প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্যে ত্রিপুরা যাবার পথে ফেনী নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে ডুবে মারা যান। বাবা মা মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষভাবে সংযুক্ত ছিলেন। তিন ভাই এক বোনের সংসারে শান্তনুদা ছিলেন দ্বিতীয়। পুরো পরিবার ছিল সংস্কৃতিসেবী। এহেন পরিবারে ১৯৫৪ সালের ২৫ অক্টোবর তাঁর জন্ম। পরবর্তী পর্যায়ে সহধর্মিনী হিসেবে সঙ্গে যাকে পেয়েছিলেন, শুভ্রা বিশ্বাস তিনিও আমাদের একজন মেধাবী নাট্য অভিনেত্রী ও সংগঠক। একে অপরের পরিপূরক ছিলেন সর্বার্থে। এই দম্পতির দুই কন্যা, অমৃতা নন্দিনী ও পৃথা প্রমিতা দু’জনেই মেধাবী ও বাবা মায়ের মতো নম্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
শান্তনু বিশ্বাস যথেষ্ট স্টাইলিস্ট ছিলেন। তাঁর বসন ব্যসন ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও স্নিগ্ধ রুচি সম্পন্ন। এই গুণ তিনি পেয়েছিলেন পিতা চিররঞ্জন বিশ্বাসের কাছ থেকে। সদাহাস্য মুখে তিনি অনর্গল কথা বলে যেতেন শিল্প সাহিত্য, নিজের জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, পরিকল্পনা নানা বিষয়ে। বড় ভাই অতনু বিশ্বাসের অকালে চলে যাওয়া খুবই ব্যথিত করত তাকে। অতনু দা সম্পর্কে যখন বলতেন তখনো তাঁর মুখের সে হাসি বিলীন হতো না। অর্থাৎ সুখ দুঃখের সব কথাই তিনি বলতেন স্মিত হাস্যমুখে। অতনু দা ও শান্তনু দা শৈশব থেকেই যুক্ত ছিলেন খেলাঘরের সঙ্গে। পরবর্তীকালে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেও সক্রিয় ছিলেন। অর্থাৎ ছোট বেলা থেকেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। এই শৃঙ্খলাবোধ তাদের পরিবারেও ছিল যা তাদের উন্নত মানসিকতার মূল্যবোধে জারিত করে তুলেছে।
শান্তনু বিশ্বাস মূলত এবং আদ্যোপান্ত একজন নাট্যকর্মী। নাট্য রচনা, নির্দেশনা, অভিনয় ও নাট্য প্রকাশনার মধ্য দিয়ে বলতে গেলে পুরো জীবন কাটিয়ে গেছেন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও অভিনয় করে গেছেন তাঁর অভিনীত শেষ নাটক নির্ভারে। আয়োজন করে গেছেন নিজের নাট্য দল কালপুরুষের তিনদিনব্যাপী নাট্যোৎসব। কর্মব্যস্ত এই মানুষটির ধ্যানজ্ঞান জুড়ে ছিল মূলত নাটক। ১৯৭৬ সালে গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর নাট্য জীবনের শুরু। ১৯৮২ সালে তিনি গঠন করেন কালপুরুষ। তিন বছর পর ১৯৮৫ সালের ৮ নভেম্বর মঞ্চস্থ করেন কালপুরুষ থেকে নিজের রচনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক-ইনফরমার। এরপর এই দল থেকে মঞ্চস্থ হয়েছে জুলিয়াস সিজারের শেষ সাত দিন, মানুষ ও নিয়তি, রাক্ষুসী, বিনোদ, মৃণালের চিঠি এবং নির্ভার। নিজের দলের এসব নাটক ছাড়াও তিনি অরিন্দমের জন্যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন ভবঘুরে নাটকটি। এই নাটকে তিনি অভিনয়ও করেন। শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলকির জন্যে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন রূপবতী ও বামন সাতজনা ও সিন্ডারেলা। এছাড়া চট্টগ্রাম থিয়েটারের জন্যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন কানামাছি খেলা নাটকটি।
নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি নাটক রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগী ছিলেন শান্তনু বিশ্বাস। নালন্দা পাবলিকেশন থেকে ২০১৮ সালে তাঁর চারটি নাটক; ‘নবজন্ম’, ‘ইনফরমার’, ‘ভবঘুরে’ ও ‘নির্ভার’ নিয়ে ‘শান্তনু বিশ্বাসের চারটি নাটক’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। খড়িমাটি প্রকাশনা ২০১৯ সালে প্রকাশ করে ‘নাট্যত্রয়ী’ নামের আরেকটি গ্রন্থ, এতে রয়েছে তাঁর অনুবাদকৃত তিনটি নাটক অ্যালেন আইকবোর্ণের ‘মাতৃচরিত’, হ্যারল্ড পিন্টারের প্রার্থী এবং এনএফ সিম্পসনের ‘খোলা হাওয়া’। খড়িমাটি থেকে তাঁর গান নিয়েও ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে ‘গানের কবিতা- খোলাপিঠ’ নামের একটি গ্রন্থ।
নাটক নিয়ে একটি লিটল ম্যাগাজিনও সম্পাদনা করতেন। ‘প্রসেনিয়াম’ নামের এই লিটল ম্যাগাজিনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে। মোট ৭টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার। ৭ম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সাতটি সংখ্যা নিয়ে ২০২০ সালে প্রসেনিয়াম সমগ্র প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রসেনিয়ামের ৭ম সংখ্যায় রয়েছে শান্তনু দার লেখা কিশোর নাটক ‘পবনচোরা’। এটাই কি তাঁর লেখা শেষ নাটক? আরো কিছু অপ্রকাশিত নাটক হয়তো থেকে থাকবে। শুভ্রাদি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। যদি থেকে থাকে তবে প্রকাশিত হবে আশা করি।
কর্মযোগী এই মানুষটি তাঁর পেশাদারী স্থান ইস্পাহানীতেও ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ একজন কর্মী। এখানে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও সর্বস্তরের জনপ্রিয়তা চাক্ষুষ করার অনেক অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। দক্ষ একজন টি টেস্টার হিসেবেও আন্তর্জাতিক খ্যাতি ছিল শান্তনু বিশ্বাসের।
২০১৯ সালের ১২ জুলাই মাত্র ৬৫ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়াটা কেবল অকাল প্রয়াণই নয়, আমাদের সংস্কৃতি জগতের জন্যে সত্যিই এক অপূরণীয় ক্ষতি। ৬৫ বছর বয়স একজন সৃষ্টিশীল মানুষের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এ সময়েই একজন শিল্পীর সামগ্রিক পরিপক্বতার নির্মাণ ঘটে। দর্শনে, অভিজ্ঞতায় এবং ক্ষমতায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ সময়। জীবনের এই সন্ধিক্ষণেই চলে গেলেন আমাদের সুদর্শন এই প্রিয় মানুষটি। যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কোন সান্ত্বনাই মনকে শান্ত করতে পারছে না শান্তনু দা।

x