শাটলে বাড়তি বগি চায় চবি শিক্ষার্থীরা

সাত দফা দাবিতে সমাবেশ-মানববন্ধন

চবি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ
42

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। দাবি শাটলের বগি বৃদ্ধি। এছাড়া ছিল মোট ৭ দফা দাবি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর জুড়ে ছিল শত শত শিক্ষার্থীর মানববন্ধন ও সমাবেশে উত্তাল। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর ষোল শহর স্টেশনেও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গত বুধবার শাটল ট্রেনে সমাজতত্ত্ব বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রবিউল আলমের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপরই এমন বিক্ষোভে ফুঁসলে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। আর এ দুটি কর্মসূচির আয়োজনে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট। মানববন্ধনে বক্তারা নিরাপদ শাটলের দাবি জানিয়ে বলেন, শাটলের বগি বৃদ্ধি ও সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এই গুরুত্বহীনতার ফল শাটল আজ মালবাহী ট্রেনে পরিণত হয়েছে।

এসময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ পাশে থাকবে জানিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়নের দাবি নিয়ে আসি নি। নিরাপদ শাটল নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনে ১২ টি বগি দিতে হবে। এছাড়া পুরনো বগিগুলোও সংস্কার করতে হবে। এসময় রবিউলকে পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা।

চবি শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনোত্তর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সহসভাপতি সৌমেন দাশ জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক আবু তোরাব পরশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু, উপসাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমাম উদ্দিন ফয়সাল পারভেজ, উপবিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক রকিবুল হাসান দিনার, ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয় ও সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাবরিনা চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। তবে মিছিলটি আই.টি ভবনের সামনে এলে হঠাৎ করে হট্টগোল বাধে। মিছিলে সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা যায়। এ নিয়ে দুই দফা কথা কাটাকাটি হয়। তবে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে এর সুরাহা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের নেতারা উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে মৌখিকভাবে দাবিগুলো জানান। এসময় উপাচার্য তাদের দাবিগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এর আগে ষোলশহরে অনুষ্ঠিত হওয়া মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বিশাল অংকের বাজেট পাশ করা হয়। কিন্তু তীব্র পরিবহন সংকট, শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত বগি নেই, হলের খাবারের নূন্যতম কোনো মান নেই, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। তাহলে কি উদরপূর্তি করার জন্যই প্রতিবছর বিশাল অংকের বাজেট পাশ করা হয় বলে প্রশ্ন ছোঁড়েন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, রবিউল ক্যাম্পাসে এসেছিল দুই পাঁয়ে দাঁড়াতে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু তার পাই কাটা পড়লো। ট্রেনে শুধু তার পা কাটা পড়েনি, কাটা পড়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন।

এসময় তার পুনর্বাসন দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সংকট নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি কখনোই কানে নেয়নি। যদি তারা পরিবহন সংকটের বিষয়টি সমাধান করতেন তবে রবিউলের এমন অবস্থা হতো না। অবিলম্বে আমাদের সাত দফা দাবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সমস্যা সমাধান করতে হবে।

ওই মানববন্ধনের সঞ্চালনায় ছিলেন ইতিহাস বিভাগের ১৬১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনজুরুল হাসান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের ১২১৩ শিক্ষাবর্ষের শুভ মারমা, পালি বিভাগের ১২১৩ শিক্ষাবর্ষের কিরণ মারমা ও শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের ১৬১৭ শিক্ষাবর্ষের মতিয়াজ ইমতু প্রমুখ। পরে মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ৭ দফা দাবি পেশ করেন তারা।

তাদের দাবিগুলো হলোশাটলের বগি বৃদ্ধি ও সংস্কার, রেললাইন সংস্কার ও ডাবল লাইন চালু করা, বটতলি স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রত্যেক স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা ও জনবল নিয়োগ করা, বহিরাগতদের শাটলে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা, রবিউলের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া, রেলস্টেশনগুলোকে আধুনিকায়ন করা এবং এক নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা।

x