শহিদুলকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা পরীক্ষার নির্দেশ

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
10

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ডিবি হেফাজতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কিনাতা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছে হাই কোর্ট। বিষয়টি পরীক্ষা করে স্বরাষ্ট্র সচিবকে সোমবারের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।

শহিদুলকে রিমান্ডে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের করা রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। রেহনুমার আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার শহিদুল আলমকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজত থেকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে শহিদুলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

সে অনুযায়ী বুধবার সকালে শহিদুলকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়া হয় এবং চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। বিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে তাকে আবার গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহআলহারুন সাংবাদিকদের বলেন, শহিদুলকে ভর্তি করার মত অবস্থা তারা দেখেননি।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকালে তাদের প্রতিবেদন হাই কোর্টে জমা দেন। কিন্তু ওই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রিটকারী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সারা হোসেন শুনানিতে বলেন, শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের পর ‘নির্যাতন করায়’ তারা এই রিট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে কেবল তার সুস্থতার পরীক্ষা হয়েছে। ওই বোর্ডে কোনো মনোবিদ না থাকায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে আসেনি। এ কারণে ওই প্রতিবেদনকে ‘অসম্পূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে পুনঃপরীক্ষার আবেদন করেন সারা হোসেন।

আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩এর ২ () ধারা অনুযায়ী শহিদুল আলমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে সোমবারের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিবকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাই কোর্ট।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৩ ও ৪ অগাস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন অধিকারকর্মী আলোকচিত্রী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন। এরপর রোববার রাতে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে পুলিশ।

ওই মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয় আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে। সোমবার আদালতে তোলার আগে গাড়ি থেকে নামার সময় শহিদুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে আঘাত করা হয়েছে। আমার রক্ত মাখা পাঞ্জাবি ধুয়ে আবার পরানো হয়েছে।’

আর হাকিম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শহিদুল বলেন, ‘গ্রেপ্তারের সময় তার চোখমুখ বেঁধে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। তারা আমাকে মোসাদ, আইএসআইর এজেন্ট বলে গালি দেয়, দেশদ্রোহীও বলে তারা। তারা আমাকে মারধরও করে।’

৬৩ বছর বয়সী শহিদুলকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার হাই কোর্টে তার স্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমার করা আবেদনে বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে শহিদুলকে ‘নির্যাতন’ এবং চিকিৎসা না দিয়ে তাকে রিমান্ডে পাঠানোর মাধ্যমে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ এবং ৩৫() অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়েছে।

x