শরৎচন্দ্র বসু: নিঃস্বার্থ স্বদেশপ্রেমী

শনিবার , ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
30

খ্যাতিমান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ শরৎচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিশিষ্ট নেতা। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম বিপ্লবীদের বিচার শুরু হলে আইনজীবী হিসেবে তিনি বিপ্লবীদের পক্ষ অবলম্বন করেন। তাঁর প্রয়াস ছিল পরাধীন ভারতবর্ষকে মুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের। আজ তাঁর ১৩০তম জন্মবার্ষিকী।
শরৎচন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৮৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর অনুজ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও আইনে ডিগ্রি নিয়ে কিছুকাল ওকালতি করেন শরৎচন্দ্র। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে যান ব্যারিস্টারি পড়তে এবং ১৯১৮ সালে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফেরেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ্য দলের সাথে যুক্ত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার তাঁকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর মানবমুখী কর্মপ্রেরণা চালিত হয়েছে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য, নিখিল ভারত রাষ্ট্রীয় মহাসভার কার্যকরী সমিতির সদস্য, বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সমিতির সভাপতি, বঙ্গীয় কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা, কেন্দ্রীয় আইন সভার বিরোধী দলীয় নেতা এবং স্বাধীন ভারতে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন স্বাধীন ভারতে একটি উপ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার সদস্য। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা করে বাংলাকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে শরৎচন্দ্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে যুক্ত ছিলেন। ‘স্যোসালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির’ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ১৯৩০-এ চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে বিপ্লবীদের পক্ষের আইনজীবী থাকাকালে মামলায় বিপ্লবীদের শাস্তি হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের অস্ত্র সরবরাহ করে কারাগার থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন শরৎচন্দ্র বসু। চেতনায় ধারণ করেছিলেন নিঃস্বার্থ স্বদেশপ্রেম। এরই প্রেরণায় স্বাধীন ভারতে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নেশন’ নামের একটি ইংরেজি পত্রিকা। বিধানসভার সদস্য হিসেবে যোগ দেবার আগের দিন ১৯৫০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শরৎচন্দ্র বসু প্রয়াত হন।

x