শতভাগ বিদ্যুতায়নে সরকারের অগ্রযাত্রা

শুক্রবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
52

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একইসাথে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ৯টি গ্রিড উপকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন। এতে ১০৬২ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পটিয়ার জুলধায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৩য় ইউনিট) এবং দুটি গ্রিড উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্রিড উপকেন্দ্র দুটি হল : শিকলবাহা (২৩০/১৩২ কেভি) উপকেন্দ্র এবং বারৈয়ারহাট (১৩২/৩৩ কেভি) উপকেন্দ্র। এছাড়াও রাঙামাটির (১৩২/৩৩ কেভিএ) উপকেন্দ্র এবং মহেশখালির মাতারবাড়ি (১৩২/৩৩ কেভিএ) উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন তিনি। এর আগে তিনি সন্দ্বীপ উপজেলায় দেশে প্রথমবারের মতন সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ১২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব কেন্দ্র-উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্দ্বীপে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। কক্সবাজারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জেলায় একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রস্থল সৃষ্টি করছে, যা কক্সবাজার জেলার সকল অঞ্চল ও উপজেলায় পৌঁছবে। তিনি বলেন, এই জেলা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামেও বিদ্যুৎ নেওয়া হবে।
সব সূচকেই প্রত্যাশার চেয়ে অগ্রগতি এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে দেশের ৯০ ভাগ মানুষের ঘরে এখন জ্বলছে বিদ্যুতের বাতি। ঘুরছে পাখা চলছে টেলিভিশন ফ্রিজ। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২০২১ এর মধ্যে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ডিসেম্বরের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজটি সেরে ফেলতে চেয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়, সারাদেশের সব ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার কাজ করেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা যথাযথভাবে শেষ করার চেষ্টা ছিল। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সকল কর্মী নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। উৎপাদন-সঞ্চালন এবং বিতরণে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে তাকে ধরে রাখতে চায় সরকার। বিদ্যুৎ খাতের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও বাস্তবায়ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
পিডিবি বলছে, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। আর এখন উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ হাজার ৯৫৩ (ক্যাপটিভসহ) মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। তবে গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার ৯৫৩ মেগাওয়াট।
আসলে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাঁরা যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তাতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে উঠতে পারে। আর আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এর আগেই সরকারের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। ইতিমধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ ঘরে পৌঁছে গেছে বলে তাঁদের দাবি। অল্পকিছুদিনের মধ্যে আমরা দেশের ৯৫ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কাজ শেষ করতে পারব বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে শুধু বিদ্যুৎ কানেকশন টানলে তো হবে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা হলো, এত ঘনবসতি আনপ্লানড আরবান এবং রুরাল এরিয়াতে খাল-বিল-নদী-নালা পেরিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া। তবে সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল স্ট্রাকচার ভিন্ন। প্রচুর ব্যয়সাপেক্ষ বিদ্যুৎ। গ্রাহকের প্যাটার্ন ভিন্ন। কোনো গ্রাহকের বিল আসে ৫০ টাকারও নিচে, আবার কোন গ্রাহকের ৫০ লাখ টাকার ওপরে। সুতরাং এই যে ইম্পারেটিভ… বিদ্যুতের লাইন তো একই করতে হয়। গ্রামগঞ্জে ১০ ঘরের জন্য যেমন বিদ্যুতের লাইন করতে হয়, ১০ হাজার ঘরের জন্যও লাইন করতে হয়। তাই সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এখন কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখা যায়, সেই চিন্তা করতে হবে।

x