শঙ্খের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

সাতকানিয়ায় অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত

সাতকানিয়া প্রতিনিধি

বুধবার , ১০ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
41

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার অধিকাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শঙ্খ ও ডলুনদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শঙ্খের ভাঙ্গনে আমিলাইষের ৪টি বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আমিলাইষ ও দ্বীপ চরতির অর্ধশতাধিক বসতঘর।
এদিকে, বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া অংশের বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকা। সড়কের উপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গতকাল সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
বাজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত জানান, বাজালিয়ার মাহালিয়া ও বড়দুয়ারা এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এখানকার অনেক বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মাহালিয়া ও বড়দুয়ারা এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে তারা নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে পানি চলাচল করছে। ফলে গতকাল সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌকা ও ভ্যান যোগে অনেক কষ্ট করে মানুষ সড়কের বড়দুয়ারা এলাকা পার হচ্ছে। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বাজালিয়ার বাকর আলী বিল এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। তিনি জানান, পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
চরতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, শঙ্খনদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গতকাল দ্বীপ চরতির অনেক আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে বেশ কিছু বসতঘর।
এছাড়া দক্ষিণ কেশুয়া চৌধুরী পাড়া সড়কের সিপাহী বাড়ি এলাকায় একটি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়েছে। বন্যার পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে। নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আকতার জানান, এলাকার ৮ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা এলাকার কিছু বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব বাড়িতে রান্না ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় খাবার তৈরি নিয়েও বিপাকে পড়েছে। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ অভ্যান্তরীণ সড়কগুলো। লোকজন এখন নৌকা নিয়ে যাতায়ত করছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক রাস্তা ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

x