লে-আউট পরীক্ষায় ৯ সদস্যের কমিটি

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

সবুর শুভ

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
159

৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের লে-আউটের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৯ সদস্যের কমিটি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কারিগরী কমিটিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী, বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে গঠিত কারিগরী কমিটির একটি চিঠি গত রোববার সিডিএতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে কমিটি বসবে বলে জানালেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস।
তথ্য অনুযায়ী, নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (বন্দর সংশ্লিষ্ট অংশ) নির্মাণে গত মাসে আপত্তি জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, প্রধান সড়কের উপর দিয়ে বড় এ এঙপ্রেসওয়ের ফলে বন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বড় এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার তিন মাস পর এ ধরনের আপত্তিতে নড়েচড়ে বসে সিডিএ। এক্ষেত্রে বন্দরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে জটিলতা নিরসনের কথা জানিয়েছিল সিডিএ। এরই অংশ হিসেবে উল্লেখিত কমিটি হলো।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
করিগরী কমিটির সদস্যরা হলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, চট্টগ্রাম বন্দরের প্ল্যানিংয়ের প্রধান মাহবুব মোরশেদ, উপ-ব্যবস্থাপক (ভূমি) জিল্লুর রহমান, উপ-পরিচালক (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ রেজাউল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল আলম, এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডিজাইনার নুর সাদেক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মনির হোসেন মিয়া।
১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৬০ ফুট প্রস্থ এঙপ্রেসওয়েটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের সয়েল টেস্টের কাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পন্ন হয়েছে।
সিডিএ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং কর্ণফুলী ইপিজেড ও আশপাশের অঞ্চলের হাজার হাজার গাড়ির কারণে বিমানবন্দর সড়ক অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। প্রতিদিনই সকাল থেকে এ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলাকাটি দিনভর যানজটের কবলে থাকায় বহু যাত্রীকে ফ্লাইট মিস করতে হয়। এ অবস্থায় যানজটমুক্ত নগর গড়ার চিন্তা থেকেই এ প্রকল্পের ধারণা আসে।
এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের লে-আউট নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তির বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে।

x