লুনা দাশ (মানসিকতা)

সোমবার , ৬ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
25

: মানসিকতায় ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন হয়, কখনও সঠিক পথনির্দেশনা দেয়, আবার তেমনি তার পথের অন্যতম অন্তরায়ও হতে পারে। মানসিকতার কারণে আমরা একজন অন্যজন থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। দুই ধরনের মানসিকতাইতিবাচক ও নেতিবাচক আমাদের , যা কখনও জিনগত কখনও বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। এই দ্বৈতসত্তার মাধ্যমে আমাদের সবার জীবন পরিচালিত হয়। মতদ্বৈততার চরম বিপর্যয়ের কারণ এই মানসিকতা। ছোট থেকে ছোট ভুলগুলোও বৃহৎ আকার ধারণ করে মানসিকতার কারণে। মানসিকতার কারণে আমাদের নেতিবাচক দিকগুলো জন্ম দেয় ঈর্ষার। এই ঈর্ষার কারণে বড় কোন ইতিবাচক সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায়। আসলে সংকীর্ণতাবোধ যত বাড়তে থাকে তত মানুষের স্বচ্ছতা, চিন্তা ও চেতনা লোপ পেতে থাকে। পরিবেশগত কারণও নির্ভর করে, সুস্থ মানসিকতার জন্যে। তবুও আমাদের নেতিবাচক আচরণগুলো এড়িয়ে চলার মাধ্যমে সংকীর্ণতাকে যতটুকু সম্ভব পরিহার করে নিজেদেরকে মনমানসিকতার পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। সমস্যা সবসময়ে আমাদের মানসিকতাকে জটিল করে তুলে। তাই সমস্যা কোথায় সেটা খুঁজে বের করে সমাধানের পথ অব্যশই উন্মুক্ত করতে হবে। পিছিয়ে গিয়ে বা আরো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেইদিকে লক্ষ্য রেখে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।একে অন্যজনকে সম্মানের মনমানসিকতা

থাকতে হবে। সহনশীলতার মনোভাব বৃদ্ধি করতে হবে। নেতিবাচক ভূমিকা কে রাখছে তার সমালোচনা না করে, সেটাকে বড় করে না ভেবে বরং তাকে সহযোগিতার মাধ্যমে তার চিন্তাধারাকে ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা কেউই নিখুঁত নই। স্বীয় অবস্থানকে যদি নিশ্চিত করতে চাই তবে অবশ্যই অন্যের পাশে সহাবস্থানের মাধ্যমে নিজের ও অন্যের যোগসূত্রের সূত্রটি সবাই মিলে বের করতে হবে। সুস্থ ও সুন্দর মনমানসিকতা শুধু ব্যক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সমাজ ও পরবর্তীকালে শক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও বিরাট ভূমিকা রাখে।তাই মনকে প্রতিনিয়ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচর্যা করে গড়ে তুলি সুস্থ ও পরিশীলিত মানসিকতা। পোশাকে নয় শুধু আধুনিকত্বমনমানসিকতাকে সুরুচিপূর্ণ তথা আধুনিকতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার প্রয়াস করতে হবে, তবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সঞ্চালিত হয়ে গড়ে তুলবে একটা পরিচ্ছন্ন ও গঠনমূলক সুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন জাতি।

x