লীলা নাগ : দীপ্তিময়ী এক বিপ্লবী নারী

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
40

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং উপমহাদেশে নারী মুক্তি আন্দোলনে এক বিপ্লবী নাম লীলা নাগ। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত থাকে তার চিন্তা, কর্ম, সাধনা আর সংগ্রামে। জীবদ্দশায় শৃঙ্খল ভেঙে নারীদের এই পথে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লীলা নাগের জীবনদর্শনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রগতিশীল ধারায় নারী মুক্তি আন্দোলন ও সমানাধিকার বাস্তবায়ন। আদর্শ ও সংগ্রামের পথে আমৃত্যু ছিলেন আপসষহীন। আজ এই মহীয়সী নারীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

লীলা নাগের জন্ম ১৯০০ সালের ২রা অক্টোবর আসামের গোয়ালপাড়ায়। বাবা গিরিশ চন্দ্র সেন, মা কুঞ্জলতা দেবী। পারিবারিকভাবেই তাঁরা ছিলেন স্বদেশ প্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত। ১৯২১ সালে লীলা নাগ বেথুন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে পদ্মাবতী স্বর্ণপদক লাভ করেন। এই কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন রানী ভিক্টোরিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে কুর্ণিশ করার প্রচলিত রীতির তীব্র বিরোধিতা করেন লীলা। ১৯২৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনিই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও একমাত্র ছাত্রী ছিলেন। অসহযোগ আন্দোলন ও বিলেতি দ্রব্য বর্জন কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রাবস্থায়। নারী জাগরণের অগ্রদূত লীলা নাগ ‘নিখিল বঙ্গ নারী ভোটাধিকার কমিটি’, ‘নারী আত্মরক্ষা ফান্ড’, ‘উত্তরবঙ্গ বন্যা ত্রাণ সমিতি’ সহ অনেক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নারী মুক্তির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘দীপালী সংঘে’র মাধ্যমে নারীদের হাতের কাজ, কুটির শিল্প ও বিভিন্ন কারিগরি কাজের ব্যবস্থা করেন তিনি। সেই সাথে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেশ কিছু অবৈতনিক স্কুল, আবাসিক ‘ছাত্রী ভবন’, ‘শিক্ষা ভবন’, ‘শিক্ষা নিকেতন’ সহ আরো অনেক সংগঠন। ছিলেন ‘জয়শ্রী’ পত্রিকার সম্পাদক। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র কারান্তরীণ থাকাকালে কিছুকাল ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ সম্পাদনা করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। ১৯৭০ সালের ১১ই জুন দীপ্তিময়ী এই নারীর জীবনাবসান ঘটে।

x