লালখান বাজারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট

ডি.টি রোডেও একই দৃশ্য।।নতুন ট্রাফিক সিস্টেমকে দায়ী করছেন চালকরা

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
1101

নগরের লালখান বাজারে বেড়েছে যানজট। বেশ কিছুদিন ধরে সকাল থেকে রাত অব্দি সৃষ্টি হওয়া এ যানজটে নাকাল হচ্ছে চলতি পথের যাত্রীরা। লালখান বাজার এলাকা ঘিরে ট্রাফিক পুলিশের নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ গাড়ি চালক ও যাত্রীদের। এতে করে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার থেকে নেমে মুহূর্তের মধ্যে যানজটে আটকা পড়ছে শত শত গাড়ি। আর এ জট লম্বা হচ্ছে ওয়াসা থেকে জিইসি পর্যন্ত, বিপরীত দিকে টাইগারপাস হতে দেওয়ানহাট পর্যন্ত। অন্যদিকে দেওয়ানহাট মোড়ের পশ্চিম দিকে ডি.টি রোড আর পূর্ব দিকে কদমতলীমুখী ধনিয়ালাপাড়া রোডেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এ জটও দীর্ঘ হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
সরেজমিন দেখা গেছে, টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ডিভাইডারে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা এবং সব গাড়ি লালখান বাজার এসে রাস্তা পারাপারের সুযোগ নিতে গিয়ে এই যানজট তৈরি হয়েছে।
নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ত সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে খ্যাত লালখান বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে গত বেশ কিছুদিন ধরে। ট্রাফিক সিগন্যালকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এই যানজটের মূল কারণ নতুন ট্র্রাফিক সিস্টেম বলেও বিশেষজ্ঞ সূত্রগুলো জানিয়েছে। নগরীর টাইগারপাস মোড়ের চৌমুহনী দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমবাগানের দিক থেকে আসা গাড়িগুলোকে টাইগারপাস মোড়ে রাস্তা পার হতে দেয়া হয় না। আগ্রাবাদ কিংবা কদমতলীমুখী গাড়িগুলোকেও টাইগারপাস থেকে বামে পাঠানো হয়। আগে রাস্তার মাঝামাঝি এলাকায় একটি কাটা থাকলেও তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব গাড়িকে পাঠানো হয় লালখান বাজার। লালখান বাজারের কাটা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে আবারো রাস্তার বিপরীত পাশের একই পথ মাড়িয়ে গাড়িগুলোকে আগ্রাবাদ বা কদমতলীর দিকে যেতে হচ্ছে। শুধু টাইগারপাস মোড়ের গাড়িই নয়, মতিঝর্ণার দিক থেকে আসা রাস্তাটির সব গাড়িও আগে সরাসরি রাস্তা পার হতে পারতো। কাটা বন্ধ করে দেয়ায় এসব গাড়িগুলো এখন লালখান বাজার ঘুরে রাস্তা হচ্ছে। আবার কখনো কখনো লালখান বাজার কাটা দিয়ে ইউ টার্ণ বন্ধ করে দিয়ে ফ্লাইওভারের নিচের কাটা দিয়ে রাস্তা পারাপারের সুযোগ দেয়া হয়।
অপরদিকে চিটাগাং ক্লাবের দিক থেকে জিইসির দিকে যাওয়া গাড়িগুলোকেও লালখান বাজারের কাটা অংশ দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বিপরীত পাশে যেতে হচ্ছে। এতে লালখান বাজার মোড়ে স্বাভাবিকভাবে গাড়ির চাপ বেড়েছে। রাস্তার মাঝের ডিভাইডারের কাটা অংশ বন্ধ করে দেয়ায় লালখান বাজার মোড় হয়ে সব গাড়িকে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে লালখান বাজার মোড়ের যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে জটের। বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। একই পথে দু’বার চলতে গিয়ে মানুষের বিপুল জ্বালানিও অহেতুক খরচ হচ্ছে।
সবকিছু মিলে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গণমুখী না হয়ে গণভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক গাড়ি চালক। তারা বলেন, রাস্তার কাটা অংশ বন্ধ করায় প্রতিটি গাড়িকে বহুদূর পর্যন্ত অহেতুক ঘুরতে হচ্ছে। জ্বালানিও পোড়াতে হচ্ছে। সময় নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নতুন এক যানজট স্পটে মানুষের শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে দেওয়ান মোড়ের পশ্চিম দিকে ডি.টি রোডেও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট চলছে। পাহাড়তলী থেকে আসা গাড়িগুলো বেপরোয়াভাবে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে ফ্লাইওভারের মুখে জটলার সৃষ্টি করছে। এতে করে দেওয়ানহাটমুখী গাড়িগুলো বাধার মুখে পড়ছে। আর সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এ জট গিয়ে ঠেকছে পাহাড়তলী পর্যন্ত। একই দৃশ্য দেখা গেছে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের কদমতলীমুখী ধনিয়ালাপাড়া রোডের মুখে। এছাড়া ডি.টি রোডের মনসুরাবাদ থেকে কাচা রাস্তা পর্যন্ত যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান স্থাপনও যানজটের অন্যতম কারণ হিসাবে দেখা গেছে।
লালখান বাজারের সৃষ্ট যানজট স্পটটি নিয়ে নগরীর ট্রাফিক বিভাগের একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মানুষের পথ চলা নিরাপদ করতেই ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে। যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই পুলিশ এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। এখানেও নিয়েছে। কিন্তু এতে সুফল বা কুফল কতটুকু আসলো তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আগে রাস্তাটি ডিভাইডারের যেই অংশটি কাটা ছিল সেখানেও যানজট ছিল। টাইগারপাস মোড়েও যানজট। এসব খণ্ড খণ্ড যানজট স্পটকে ম্যানেজ করতেই মূলত নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগর পুলিশের অপর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি আমরা ওভাবে দেখিনি। এখন অবশ্যই আমরা খেয়াল করে দেখবো। যদি সত্যি সত্যিই আমাদের ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন যানজট স্পট তৈরি হয় তাহলে তা অবশ্যই পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্যই ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক আইনের জন্য তো মানুষ নয়। তা যা কিছুই করা হোক না কেন, সবার আগেই আমাদের নগরবাসীকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

x