লামায় বর্ষবরণে ৫ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

লামা প্রতিনিধি

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
18

সাংগ্রাই ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আজ ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে লামা উপজেলার পাহাড়ী পল্লী গুলোতে ৫ দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। মার্মা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাড়া মহল্লা গুলো সেজেছে নতুন সাজে। সর্বত্রই এখন উৎসবের সাজ সাজ রব। পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতিদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘ বৈসাবি’ হলেও লামা উপজেলা মার্মা জনগোষ্টি অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে “ সাংগ্রাই ” পালিত হয়ে থাকে।
অপরদিকে, বাঙালি সম্প্রদায় পালন করেন নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী “পহেলা বৈশাখ”। বাংলা নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযপানের জন্য উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানান অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে। লামা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।
তিন পার্বত্য জেলায় বাংলা বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসবকে ত্রিপুরা সমপ্রদায় ‘বৈসুক’, মারমা সমপ্রদায় ‘ সাংগ্রাই ’ এবং চাকমা সমপ্রদায় ‘ বিজু ’ নামে পালন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান তিন সমপ্রদায়ের অনুষ্ঠানের ৩টি আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি বলে পাহাড়ে এই উৎসব পরিচিত। লামা উপজেলা সাধারণত মারমা অধ্যুষিত হওয়ায় এ উপজেলার পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলছে সাংগ্রাই উদযাপনের আনন্দ। সাংগ্রাই উদযাপন উপলক্ষে আজ ১৪ এপ্রিল থেকে পাড়ায় পাড়ায় চলবে নানান অনুষ্ঠান। তরুণ-তরুণীরা নাচে-গানে মাতিয়ে তোলবেন পাহাড়ী পল্লীগুলো। সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে পিঠা তৈরির ধুম পড়বে মারমা সমপ্রদায়ের ঘরে ঘরে। পাড়ায় পাড়ায় সারি বদ্ধভাবে বসে তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোররা হরেক রকমের পিঠা তৈরি করবেন। রাতব্যাপী পিঠা তৈরি করে বাহারী রকমের পোষাক পরে এ সকল পিঠা পাড়ায় পাড়ায় এবং বৌদ্ধ বিহার গুলোতে বিতরণ করা হবে। লামা মহামুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে ৩ দিন ব্যাপী মেলা বসবে। এ মেলায় হরেক রকমের স্টলের পাশাপাশি নাগরদোলা সহ বিভিন্ন রকমের খেলা-ধূলার আয়োজনে আনন্দে মেতে উঠে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই। মারমা সমপ্রদায় পহেলা বৈশাখ পালন করে বর্ণিল জলকেলি বা পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে। পুরাতন বছরের সব দুঃখ হতাশাকে মুছে ফেলার জন্য জল ছিটানো উৎসব (পানি খেলা) হয়ে থাকে। উঠতি বয়সী তরুণ -তরুণীরা মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে বর্ষ বরণের এ অনুষ্ঠানে বন্ধুদেরকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমন্ত্রন জানাচ্ছেন।
লামা পৌরসভার বড় নুনারবিলপাড়া সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির প্রধান সন্বায়কারী মংছিংপ্রু মার্মা জানান, লামায় সাংগ্রাই উদযাপন উপলক্ষে ৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান মালার মধ্যে রয়েছে কেয়াং দর্শণ ও সমবেত প্রার্থনা, কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন খেলা-ধূলা এবং রাতে পিঠা উৎসব, পিঠা বিতরণ। আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা। একইভাবে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাংগ্রাই উদযাপিত হবে। মংছিংপ্রু মার্মা জানান, পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো থাকায় এবার উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতিবারের ন্যায় লামায় সাংগ্রাই উদযাপিত হবে।
দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে পাহাড়ে বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণের অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রেখে নিজস্ব কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী আয়োজিত বর্ষবরণের প্রতিটি আয়োজনই এতদাঞ্চলে পাহাড়ি বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

x