লাকি ভেন্যুতে জয় দিয়েই শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

নজরুল ইসলাম

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
84

আরো একবার বিধ্বস্ত হয়ে চট্টগ্রাম এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যদিও যতবারই বিধ্বস্ত হয়ে চট্টগ্রামে এসেছে টাইগাররা ততবারই সাফল্য নিয়ে ফিরেছে। এবার আরো একবার তেমন সাফল্যের খোঁজে টাইগাররা চট্টগ্রামে। বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচ থেকে যে হারের বৃত্তে বন্দী হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ দল তার সমাপ্তি ঘটেছিল ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্বস্তির জয় তুলে নিয়ে। কিন্তু আফগানদের কাছে আরো একবার হেরে আবারো হারের রাস্তায় সাকিবের দল। তাই চট্টগ্রামে এসেছে আরো একটি স্বস্তির জয়ের সন্ধানে। যে জয় আবার আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পাশাপাশি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালেও করে দিতে পারে জায়গা। তাই আজকের ম্যাচটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য।
চট্টগ্রাম বরাবরই বাংলাদেশের জন্য লাকি গ্রাউন্ড। চট্টগ্রাম দুহাত ভরে দিয়েছে টাইগারদের। যদিও এ মাসের শুরুতে আফগানদের কাছে টেস্টে হারের লজ্জাটা পেতে হয়েছে এই চট্টগ্রামেই। তবে সেসব এখন অতীত। এখন টাইগারদের ভাবনায় কেবলই টি-টোয়েন্টি সিরিজ। যে সিরিজের ফাইনালে যেতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই স্বাগতিকদের। কারণ পরের ম্যাচটা সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে। যারা কিনা এখন মুর্তিমান আতংক বাংলাদেশের জন্য। তাই যা করার আজকের ম্যাচেই করতে হবে। যদিও ঢাকায় প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল টাইগাররা। তবে সে জয়টা পেতে বড্ড বেশি ঘাম ঝরাতে হয়েছে সাকিবদের। তার উপর দলের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যেন রান করতে ভুলে গেছে। ব্যাটিংটা যেন এখন সাকিব-মুশফিকদের জন্য দুনিয়ার সবচাইতে বড় কঠিন কাজে পরিণত হয়েছে। আফগানদের কাছে হারের পর সাকিব বলেছেন, দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্নবিশ্বাসে যেমন চিড় ধরেছে তেমনি মাঠে প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে দৈন্যতা। না হয় যেসব শট খেলে গত দুই ম্যাচে আউট হয়েছেন টাইগারদের টপ অর্ডার তা বড়ই দৃষ্টিকটূ। আবার এমন শট খেলেই অনেক রান করেছেন সাকিব-মুশফিক-সাব্বির-রিয়াদরা। নতুন ভেন্যুতে আজ আবার পুরানো প্রতিপক্ষ। সাফল্যের সন্ধানে দলে আনা হয়েছে একাধিক পরিবর্তন। সব মিলিয়ে নতুনভাবে যেন শুরু করতে চাইছে বাংলাদেশ। যেখানে লক্ষ্য অবশ্য অপরিবর্তিত। আর তা হচ্ছে জয়, জয় আর জয়। নিজেদের লাকিগ্রাউন্ড জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সে জয়টা ধরা দেবে তেমনটাই প্রত্যাশা টাইগারদের। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আর এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজের ফাইনালে পা রাখবে সাকিববাহিনী।
অন্যদিকে দুই ম্যাচে হেরে যাওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচটি এক অর্থে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। আর বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল নিশ্চিতের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ। অবশ্য প্রথম ম্যাচ জিতেও আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল টাইগারদের। কিন্তু পরের ম্যাচেই সব উধাও। বলা হয়ে তাকে টেস্ট কিংবা ওয়ানডেটা যতটা ভাল খেলে থাকে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিটা ততটা ভাল খেলে না। তার প্রমাণ অবশ্য মাঠেই দিয়ে আসছে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচাইতে বেশি ম্যাচ হারের রেকর্ড এখন টাইগারদের। যে লজ্জার রেকর্ডটি সাকিবরা অর্জন করেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে। সে সাথে আফগানরা গড়েছে গৌরবের রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টানা সবচাইতে বেশি জয়ের রেকর্ড যে এখন আফগানদের।
আগের দুই ম্যাচে দল নিয়ে বেশ পরীক্ষা নীরিক্ষা হয়েছে। কিন্তু কোনটি কাজে আসেনি। চট্টগ্রাম পর্বে যেন আরো বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলল নির্বাচকরা। দলে নিয়েছেন চারজন নতুন ক্রিকেটার। যদিও সে চারজনের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হতে পারে নাজমুল হোসেন শান্তর। তাকে দিয়ে ইনিংসের সূচনা করতে চায় বাংলাদেশ। আর ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে শান্তর ওপেনিং পার্টনার হতে পারেন লিটন দাশ। কারণ সৌম্য না থাকায় আগের ম্যাচে মুশফিককে দিয়ে ওপেন করার যে ঝুঁকি নিয়েছিল সেটা হয়তো নিতে চাইবে না এই ম্যাচে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল করার পাশাপাশি ইমার্জিং দলের হয়ে ভাল খেলার পুরষ্কারটা পেয়েছেন শান্ত। এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে সেটা কতটা কাজে লাগাতে পারে তা জানা যাবে আজ। ভুল শুধরে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ-সাব্বিরদের আজ স্বরূপে ফেরার দিন। নিজেদের হারানো অতীত ফিরিয়ে আনার দিন। আর সেটা যে টাইগারদের খুব বেশি দরকার।
বাংলাদেশ যেখানে একটি জয়কে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা হিসেবে দেখছে সেখানে জিম্বাবুয়েও চাইছে টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথে হাঁটতে। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সবখানে ছন্নছাড়া জিম্বাবুয়েও টুর্নামেন্টের টিকে থাকার লড়াইয়ে আজকের মাচটাকে টার্গেট করেছে। আগের ম্যাচের পথে হাটতে নারাজ জিম্বাবুয়েও। নতুন ভেন্যুতে নতুন শুরু চায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল। আর বাংলাদেশের জন্য জিম্বাবুয়েও যে এখন শক্ত প্রতিপক্ষ সেটা তারা প্রথম ম্যাচে দেখিয়েছে। বলতে গেলে ম্যাচটিতে স্বাগতিকদের প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল মাসাকাদজাবাহিনী। পরের ম্যাচে হারলেও আফগানদেরও কাঁপিয়ে দিয়েছিল মাসাকাদজা-টেইলরা। তার উপর বাংলাদেশ যে চাপে রয়েছে সেটাও বেশ ভালই বুঝতে পারছে জিম্বাবুয়ে। তাই সুযোগটা নিতে চায় তারাও। পরিসংখ্যান আর শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ সেটা মাঠে প্রমাণ করতে পারছে না। তবে এবার আর হারতে চাইছে না বাংলাদেশ। আর কোন অঘটনেরও সুযোগ দিতে চাইছেনা। লাকি ভেন্যুতে জয় দিয়েই শুরু করতে মরিয়া সাকিবরা।

x