লম্বোক : উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই ফের ভূমিকম্প

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
18

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে থমকে গেছে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত পর্যটন দ্বীপ লম্বোক। গতকাল বৃহস্পতিবারের ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্পে নতুন করে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ভূমিকম্পে লম্বোকে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। রোববারের ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হওয়ার পর থেকে একটার পর একটা পরাঘাতে দ্বীপটি বারবার কেঁপে উঠছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আবহওয়া ও ভূপদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি)। খবর বিডিনিউজের।

দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন, সর্বশেষ এ ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত লোকজন দৌড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসে এবং কিছু ভবন ধসে পড়ে। টুইটারে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতোপো পুর্বো নুগ্রোহো বলেছেন, ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন অনুভব করার পর লোকজন দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। লোকজন এখনও আতঙ্কিত হয়ে আছে। এই ভূমিকম্পে আবারও কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ভূমিতে হওয়ায় এতে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ও মাত্রা ৫ দশমিক ৯ বলে রেকর্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসএজিএস)

রোববারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত ১৩১ জন ছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপিবির কর্মকর্তারা। এ সত্ত্বেও মৃতের সংখ্যা ৩৪৭ জন বলে দাবি করেছেন দেশটির কিছু কর্মকর্তা। সুতোপো মৃতের সর্বশেষ সংখ্যা জানাননি, রয়টার্সকে শুধু বলেছেন, মৃতের সংখ্যার বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটবে।

লম্বোকে মানবিক সংকটও প্রকট হচ্ছে। গৃহহীন হয়ে পড়া কয়েক হাজার লোকের পরিষ্কার পানি, খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় দরকার।

রোববারের ভূমিকম্পের থেকে লম্বোকের উত্তর অংশের গ্রামীণ এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে ইতোমধ্যে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ভূমিকম্পে সেতু ধসে পড়ায় ও রাস্তা ধ্বংস হওয়ায় কিছু দুর্গত গ্রামে ত্রাণকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রোববারের পর থেকেই ফের ভূমিকম্পের আশঙ্কায় থাকা কয়েক হাজার পর্যটক দ্বীপটি ছেড়ে যেতে শুরু করেন। এদের অনেকে এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবস্থা করা অতিরিক্ত ফ্লাইটে করে দ্বীপটি ছেড়েছেন। অন্যরা ফেরিতে করে পাশের দ্বীপ বালিতে চলে গেছেন।

x