লণ্ডভণ্ড সড়ক, ব্যাপক দুর্ভোগ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া ।। মনজুর আলম, বোয়ালখালী

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
146

চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১০ দিনের লাগাতার বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গ্রামীণ অবকাঠামো। এতে কোন কোন সড়কে এখনো পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আবার ভেঙে যাওয়া কোন কোন সড়ককে তাৎক্ষণিক মাটি, বালি ও ইটের টুকরো দিয়ে সাময়িক চলাচল উপযোগী করলেও তা টিকছে না। এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ। দ্রুত এসব সড়ককে টেকসইভাবে নির্মাণের মাধ্যমে সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করার দাবি উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যার পানি নেমেছে মাত্র কয়েকদিন হচ্ছে। আবার অপেক্ষাকৃত নিচু ইউনিয়নগুলোর বেশকিছু গ্রাম এখনো পানিতে নিমজ্জিত। এরইমধ্যে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপন করা হচ্ছে। সেই চিত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র প্রেরণেরও কাজ চলছে জোরেশোরে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসহ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যা পরবর্তী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা করা হয়। সেখানে তুলে ধরা হয় টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চকরিয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার চিত্র। তম্মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার বসতবাড়ি ক্ষতির তথ্য জানানো হয়। তুলে ধরা হয় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের এলজিইডি, সওজ এর ১৯৫ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতির চিত্র। তন্মধ্য এলজিইডির সড়কের ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বন্যায় এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার সবজি ক্ষেত নষ্ট, তিন হাজার পুকুর ও চিংড়িঘেরসহ মৎস্যখাতে বিভিন্ন প্রকল্পের ৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ সমতলে ছয় কিলোমিটার এবং উপকূলের ৮৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিলীন হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ ও বিএমচর ইউনিয়নের একটি মসজিদও মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘এবারের বন্যায় গ্রামীণ অবকাঠামোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলজিইডির সড়কের। বন্যায় একাধিক সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো যাতে নতুন করে মেরামত করা হয় সেজন্য মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রাথমিক ক্ষতির চিত্র নিরূপন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সড়কগুলোকে সম্পূর্ণ চলাচল উপযোগী করতে।’ চকরিয়ার ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, এখনো কিছু এলাকায় বানের পানি জমে রয়েছে। এর পরও বিভিন্ন দপ্তরের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপন করে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করণীয় কী হবে তাও তুলে ধরেছি প্রতিবেদনের মধ্যমে। স্ব স্ব মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসলেই সড়ক মেরামতসহ ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে।’ এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো যাতে দ্রুত সচল করা যায় সেজন্য প্রাথমিকভাবে সড়কগুলো চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়ে টেকসইভাবে সড়কগুলো মেরামতে হাত দেওয়া হবে। এছাড়াও বন্যায় অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার মানুষগুলোকেও যথাযথ সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়গুলো স্ব স্ব সচিবের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, ভাল কিছু একটা হবে।’

বোয়ালখালী

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক-উপ সড়কগুলোর নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতে ক্ষত-বিক্ষত এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।
জানা যায় একদিকে উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়ক -উপসড়কগুলো যথাযথ সংস্কারের অভাবে এমনিতেই নাজুক অবস্থা, এর উপর বিগত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এসব সড়কের অস্তিত্বই এখন বিলীন হওয়ার পথে এসে ঠেকেছে। সরকারি এক হিসেব মতে উপজেলার ২৯১ কিলোমিটার কাঁচা, ১৪০ কিলোমিটার আধা পাকা ও ৫৫ কিলোমিটার পাকারাস্তা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এর ব্যতিক্রম হিসেব পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারি খাতায় পাকা রাস্তাগুলোর বিটুমিন আর আধাপাকা রাস্তাগুলোর ইট সুড়কি উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে এখন বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে তাতে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। অপরদিকে কাঁচা রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে এসে ঠেকেছে। এমনকি উপজেলা সদর ও পৌর সদরের অনেক সড়কের অবস্‌হা এখন শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো কাদা-পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে লেখা-লেখি ও মাতামাতি অনেক হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই যেন কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙানো যাচ্ছে না। ফল এসব সড়ক-উপ সড়ক দিয়ে যাতায়াতে পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ এসব সড়কগুলোর নামে সরকারি খাতে টি আর,কাবিকা-কাবিটা, কিংবা অন্যান্যখাত হতে সরকারি বরাদ্দ কিংবা অনুদান ঠিকই আছে,কিন্তু সুষ্ঠু তদারকি কিংবা যথাযথ নজরদারির অভাব অথবা সংশ্লিষ্ট তদারকির কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গোপন চুক্তির হিসেব মতে হালুয়া্‌-রুটির ভাগ -ভাটোয়ারার ফলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
কোন কোন ঠিকাদার সড়ক বা রাস্তায় লোক দেখানো সামান্য কাজ চালালেও অনেকক্ষেত্রে বরাদ্দের পুরো টাকাটাই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থাকলেও এ যাবৎ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা কেউ জানেনা।ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, সরকারি খাতায় নাম আছে বরাদ্দ ও হচ্ছে নিয়মিত, কিন্তু সড়কগুলো দিয়ে ভালভাবে গাড়ি চলাচল করবে দূরে থাক মানুষ পর্যন্ত চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। তারপর ও এসব সড়ক নিয়ে সুন্দর রাজনীতি চলে।নির্বাচনের সময় এসব সড়ক নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে প্রার্থীদের দর কষাকষির সুবিধা হয়। শর্ত উঠে ভোট দেবেন রাস্তা নতুন করে তকতকে ঝকঝকে করে দেব। কিন্তু নির্বাচনে জিতে বেমালুম সব ভুলে যান।লোক দখানো যত সামান্য কাজ হলেও এতে জনগনের ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত হলে জনগণকে আশ্বস্ত করে- ‘আর কটাদিন সবুর কর রসুন বুনেছি’ এলাকাবাসী সবুর করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর। কিন্তু সে মেওয়া আর ফলেনা।ফলে এলাকার এসব জনগনকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলির ভঙ্গুর এসব রাস্তাঘাট সড়ক-উপ সড়কগুলো বহু কষ্টে পাড়ি দেয়া ছাড়া কোন গত্যান্তর থাকে না।

x