লক্ষ্যের ৮ ভাগ বেশি রপ্তানি আয়

শুক্রবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
82

রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। টানা পাঁচ মাস ধরে বাড়ছে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ দুই হাজার ৪১৮ কোটি (২৪.১৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই অংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেশি এসেছে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খবর বিডিনিউজের।
সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে এসেছে। ভোটের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করায় আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষক, ব্যাংকার এবং রপ্তানিকারকরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেন, এমনিতেই রপ্তানি আয়ে বেশ গতি ছিল। ১৪/১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খুবই ভালো। নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার সরকারই দায়িত্ব নিয়েছে। কোনো অস্থিরতা নেই। সরকারের ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকে। রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তাই হবে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পোশাক কিনবে। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে।
৩০ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সমর্থন যোগানো। সেই লক্ষ্য অর্জনে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ দেশজ ও বৈদেশিক চাহিদার সূত্রে উৎপাদন কর্মকাণ্ডের জন্য উপকরণাদি আমদানি ১৭.৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানির ১৪.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তারই সাক্ষ্য। উৎপাদন কর্মকাণ্ডে কোনো বিঘ্ন ব্যতিরেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কর্মকাণ্ডের ধারা আরো জোরালো হবে প্রত্যাশা করা যায়।
তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানো সম্ভব হয়েছে জানিয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমাদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। আমরা এখন বেশি দামের পোশাকও রপ্তানি করছি। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। সার্বিকভাবে সবকিছুই এখন আমাদের অনুকূলে। সে কারণেই বাড়ছে রপ্তানি আয়।
বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল দুই হাজার ২৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের এই সাত মাসে আয় হয়েছিল দুই হাজার ১৩২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ৩৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের জানুয়াতে আয় হয়েছিল ৩৪০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এ হিসাবে জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৬১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ ২৪ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এ খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে এক হাজার ১৪ কোটি ৫ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক হাজার ৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। নিটে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়ে গছে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর ওভেনে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ শতাংশের মতো। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টেই তা হোঁচট খায়। ওই মাসে গত বছরের আগস্টের চেয়ে আয় কমে ১২ শতাংশ। এর পরের মাস থেকে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক দরপতন করায় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে তাতে আমেরিকার বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমে যাবে। সেই বাজার বাংলাদেশের দখল করার সম্ভাবনা আছে। সেটা হলে আমাদের রপ্তানি আরো বাড়বে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬১ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। একইভাবে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম।

x