রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হতে হবে

রবিবার , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
44

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত শরণার্থী সঙ্কট সম্পর্কিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবত্রয় উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো হলো, প্রথমত মায়ানমারের সেনা শাসিত সরকার সে দেশের রোহিঙ্গাদের প্রতি যে বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি অনুসরণ করছে, সেই আইন ও নীতি বাতিল করতে হবে এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে মায়ানমারকে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে সেখানে সেইফ জোন বা নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের করা সুপারিশের ভিত্তিতে ন্যায় বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতা থেকে রক্ষা করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট আজকের বা সাম্প্রতিক নয়। এ সঙ্কট কয়েক দশকের পুরানো একটি ইস্যু। গত বছর আগস্ট মাসে মায়ানমারের রাখাইনে মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর আবার জাতিগত নির্মূল অভিযান চালায়। এতে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব বাড়ি-ঘর বসতি পরিত্যাগ করে চলে আসা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়। শুধু বড় অংশ নয় প্রায় সবটাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এতে বাংলাদেশকে বিরাট এক সমস্যায় পড়তে হয়। পরিতাপের বিষয়, এরপর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয় নি। মায়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি করলেও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয় নি তারা। রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া বা তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশটির সরকারকে কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুরোধ বা চাপ কোনটার তোয়াক্কাই করে নি। বরং এক ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘে যখন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে, তখন বর্মী সেনাপ্রধান বলেছেন, রাখাইনের ঘটনা নিয়ে কারো কোন ‘অগ্রহণযোগ্য দাবি’ মেনে নেয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যেসব প্রস্তাব করেছেন তার কোনটিই অযৌক্তিক বলা যাবে না। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হলে এর চেয়ে সহজ যুক্তিগ্রাহ্য আর কোনটাই নেই। তাই, আমরা মনে করি, বিশ্বনেতারা এসব প্রস্তাবগুলো সানন্দে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবেন। আমাদের বিবেচনায় জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ খুলে যাবে। জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রাখাইনে গণহত্যা চালানোর জন্য মায়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের সুপারিশ করেছে। আমরা আশা করি, তাদের সুপারিশ দেশটির সেনাবাহিনী বিচারের পথকে প্রশস্ত করবে। প্রকৃতপক্ষে মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক প্যানেলের এক সিদ্ধান্ত মায়ানমারের বিচারের পথ উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই বিচারকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

x