রোহিঙ্গা ঢলের কারণে কক্সবাজারে ২ বছর ধরে বন্ধ সার্ভার সিস্টেম

জন্ম, মৃত্যু সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা ফের চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:০৫ অপরাহ্ণ
115

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের চার পৌরসভাসহ ৭১টি ইউনিয়নের সার্ভার সিস্টেম। ফলে জন্ম ও মৃত্যু সনদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার জেলায়। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব সেবা ফের চালু করার জন্য অবশেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলায় সার্ভার সিস্টেম বন্ধ থাকার কারণে জন্ম ও মৃত্যু সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ থাকার পাশাপাশি নতুন ভোটার হওয়া, বিদ্যালয়ে ভর্তি, বিয়ে-শাদী, জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয় সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড সম্পাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছে জেলার নাগরিকরা। এ নিয়ে নাগরিক সমাজ চরম ক্ষুব্দ।

বন্ধ সার্ভার খুলে দেয়ার দাবিতে গত বছরের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসক বরাবরে এবং চলতি বছরের মে মাসে নির্বাচন কমিশন বরাবরে স্মারকলিপি দেয় কক্সবাজার পিপলস ফোরাম নামের একটি নাগরিক সংগঠন।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে প্রতিবারই ‘খুব শীঘ্রই’ সার্ভার স্টেশন খুলে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন রোহিঙ্গা ঢলের পর হতে বন্ধ থাকা জন্মনিবন্ধন সার্ভার শীঘ্রই খুলে দেয়া হবে বলে জানান।

কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সার্ভার বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের নানামুখী দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সনদ সব বয়সের মানুষের জন্য জরুরি একটি উপকরণ। জমি রেজিস্ট্রি, পাসপোর্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ভোটার হওয়াসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজে জন্মনিবন্ধন অত্যাবশ্যকীয় কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে জন্মনিবন্ধন সার্ভার বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিল। এনিয়ে স্থানীয়রা বার বার প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়ে আসছেন। এসব দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠির সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সবিস্তারে উল্লেখ থাকায় আশা করছি শীঘ্রই সার্ভার খুলে দেয়া হবে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘এভাবে সার্ভার বন্ধ করে ভিনদেশীদের ভোটার হওয়া বা পাসপোর্ট পাওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। এসব জন্মনিবন্ধন আসে জনপ্রতিনিধি ও জনসম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার শাখাগুলো থেকে। এখানে দায়িত্বরত মানুষগুলো বাংলাদেশেরই নাগরিক। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে দেশপ্রেমের সাথে কাজ করলে, কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের পরই জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করলে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে।’

সভায় কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, ডিজিএফআই-এর লে. কর্ণেল রুবাইয়াত, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরআরসি মো. সামশুদ্দোহা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাহান আলী, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, উখিয়ার ইউএনও নিকারুজ্জামান চৌধুরী, টেকনাফের ইউএনও রবিউল হাসান, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

x