রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস তিন শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

বর্ষার শুরুতেই দুর্ভোগ

উখিয়া প্রতিনিধি

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
96

বর্ষার শুরুতেই টানা দুদিনের বৃষ্টিতে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে রোহিঙ্গাদের তিন শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে পাহাড়ধসে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল রবিবার এঘটনা ঘটে। বর্ষার শুরুতেই উখিয়ার ২৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এদুর্ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ রাস্তা গুলো কাদায় একাকার হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের কমিউনিটি সেন্টার, স্কুলগুলোতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে থাকা প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু খালে ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘু চাপের প্রভাবে গত দুইদিন ধরে হাল্কা থেকে মাঝারি দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কার্যত এ বৃষ্টি পাতের মধ্য দিয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হতে চলেছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভিমত।

উখিয়ার কুতুপালংবালুখালি মেগা আশ্রয় ক্যাম্পের ১ ই, ১ ডব্লিউ, ৩ ও ৪ বর্ধিত ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ সচিব সামিমুল হক পাভেল জানান, তার ক্যাম্পে গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত পাহাড় ধসে ৮০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। তবে এতে তেমন কেউ হতাহত হয়নি।

ক্যাম্প ৫, ৮ ডব্লিউ ও ১৭ এর ইনচার্জ আবু সালেহ মো. উবাইদুল্লাহ জানান, তার ক্যাম্পে গতকাল বিকাল পর্যন্ত তেমন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি, তবে পাহাড় ধসে ২০টির মত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

রোহিঙ্গারা জানায়, ক্যাম্প ৫ এর তুর্কি পাহাড়ে ৫০/৬০টির মত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। কুতুপালং মেগা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রটারি মো. নুর জানান, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ক্যাম্প ৩, , , ১৩ এ ৬০টির মত ঘর বিধ্বস্ত ও ১১টির মত ঘর জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট গুলো কাদায় ভরে যাওয়ায় লোকজনের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে থাকা প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা পড়েছে ব্যাপক দুর্ভোগে। তাদের অবস্থান সংলগ্ন তুমব্রশু খালে পাহাড়ি ঢল নামায় সেখানে ৫৫ টির মত ঘর পহ্মাবিত হয়েছে বলে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান। তবে গতকাল বিকেলে বিজিবি কর্মকর্তারা উদ্বাস্তুদের দুঃচিন্তা না করতে বলেছেন। ঘর সংস্কারের জন্য বিজিবি বাঁশ মজুদ করছে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েকজন আহত হলেও প্রায় তিন শতাধিক রোহিঙ্গা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

x