রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জমি দখল করে এনজিওর স্থাপনা!

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
68

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে বনভূমি ও জোত জমি দখল-বেদখলের ঘটনা। অভিযোগ আছে, কিছু এনজিও নিয়ম না মেনে বিভিন্ন স্থানে বনভূমি ও স্থানীয়দের জায়গা দখল করছে। এ ধরনের একটি এনজিও সংস্থা উখিয়ার থাইংখালী শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্প-১৬তে স্থানীয়দের গাছপালা ও ক্ষেত নষ্ট করে, পাহাড় কেটে জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উখিয়ার ২০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আগে থেকে রয়েছে ৪ লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। এসব রোহিঙ্গার মানবিক সেবার নামে কর্মরত রয়েছে ২ শতাধিক এনজিও। উক্ত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে শুরু থেকে নানা অভিযোগ এলেও মানবতার খাতিরে কেউ প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু এবার স্থানীয়দের খতিয়ানভূক্ত জমি দখল করে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও সংস্থার বিরুদ্ধে। জামতলীস্থ শফিউল্যা কাটা ক্যাম্প-১৬তে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ‘কেয়ার’ এর শত শত রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ার দিয়ে দুটি বসতঘর দখল করে।
জমির মালিক গুলজার বেগম (৩৭) এবং দিলদার বেগম (৩৫) দুই বোন। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ওই ২ নারীর ৪০ শতক জমি রয়েছে। আবু বক্করের ভিটা নামে পরিচিত এই জমিতে এই ২ নারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। পালংখালী মৌজার ১৩০ নং খতিয়ানের অংশীদার গুলজার এবং দিলদার মূলত আবু বক্বরের ওয়ারিশদার।
ওই দুই মহিলার ভাই মফিজ উদ্দিন বলেন, এনজিও কেয়ার তাদের ওয়ারিশান সম্পত্তির উপর দুইশর মতো কলা গাছ, এককানি জমির বেগুন ক্ষেত উপড়ে ফেলে, কেটে ফেলে এবং তাদের ব্যবহার্য একটি পুকুর ভরাট করে ফেলেছে।
এ সময় এনজিওটি শত শত রোহিঙ্গা দিয়ে দুই বোনের পরিবারের সদস্যদের অন্য একটি কুড়ে ঘরে জিম্মি করে রেখে তাদের বসত ঘর দুটি ভেঙে, পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ১০/১২টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
ভুক্তভোগী দুই বোন জানিয়েছেন, কেয়ার বাংলাদেশ নিজেদের ভলান্টিয়ার দিয়ে দীর্ঘদিনের দুটি বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে জায়গাটি তাদের দখলে নেয় এবং সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য শেড নির্মাণ শুরু করে। এ সময় এনজিওর লোকজন ঘরের মহিলা ও শিশুদের অন্য একটি ঘরে আটকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে।

আমরা এ নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরীকে লিখিত অভিযোগ জানালে ইউএনও উক্ত এনজিও সংস্থার লোকজনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কেয়ার বাংলাদেশ স্থানীয়দের জোত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তাদের কর্মকর্তা লক্ষী রানীর নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে উল্টো আমাকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। তিনি বিষয়টি ইউএনওকে লিখিত আকারে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে কেয়ার বাংলাদেশের ফিল্ড অফিসার লক্ষীরানী বলেন, সরকারের নির্দেশে সিআইসির সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশ। স্থানীয়দের বসতভিটা, ক্ষেতখামার, জমি দখল, ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কেয়ার বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও সংস্থা স্থানীয়দের মালিকানাধীন জোত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করাসহ কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূর্বের যে সমস্ত স্থাপনা রয়েছে তা সংস্কার, মেরামত ছাড়া নতুন করে কোনো ধরনের সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করা যাবে না। কিন্তু সেবা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারী বনভূমি ও স্থানীয়দের মালিকানাধীন জমি দখল করে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।

x