রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনন্দ-বেদনায় ঈদ

উখিয়া প্রতিনিধি

সোমবার , ১২ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
104

আনন্দ-বেদনায় ঈদুল আজহা পালন করছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

ঈদের নামাজের সময় খোতবা চলাকালে নিজেদের দেশ ও স্বজনদের স্মৃতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমামসহ রোহিঙ্গা মুসল্লিরা।

মাঝ বয়সী থেকে বয়স্ক রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাতৃভূমি রাখাইনে ফিরে যাওয়ার করুণ আকুতি ভেসে উঠে।

আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ওই সব জামাতে মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসলিমরা নির্যাতনের বিচার চেয়ে ও নিজ দেশ মিয়ানমারে মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদে ফিরে যেতে কাকুতি করে মোনাজাত করেন। তাদের আশ্রয় দিয়ে জান মাল, ইজ্জত রক্ষা করায় বাংলাদেশের সরকার-জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

উখিয়ার ২০টি ক্যাম্পে দেখা গেছে, শিশুরা সকাল থেকেই নিজদের পরিষ্কার ও নতুন জামা-কাপড় পরে সেজেগুজে শিবিরের রাস্তা ও অলিগলিতে হৈ চৈ আর আনন্দে মেতে উঠেছে। কিশোরীরাও নিজেদের সাজানোর চেষ্টা করেছে মনের মতো করে।

তবে বড়দের ঈদ উৎসবের আমেজ নেই। তাদের মনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনে প্রাণ হারানো স্বজনদের দুঃসহ স্মৃতি!

উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা শিবিরে এক হাজার ২শটি মসজিদ ও ৬৪২টি নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নিবন্ধিত পুরনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৮টি, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৮২টি ও ৩৮টি নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব মসজিদ ও নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদের জামায়াত আদায় করেছেন মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা। কিছু কিছু জায়গায় খোলা আকাশের নিচেও ঈদের নামাজ করতে দেখা গেছে।

রোহিঙ্গা মুসল্লিরা বলেন, আগস্ট মাস রোহিঙ্গাদের জন্য জঘন্যতম কালো অধ্যায়ের। এ মাসে খুব কাছ থেকেই তারা দেখেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস রূপ। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চোখের সামনেই সেনারা ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন, স্ত্রী, বাবা-মাকে মেরে ফেলেছে। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ঘরবাড়ি। লুট করা হয় সহায়-সম্বল।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস-এর চেয়ারম্যান মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেশে যেভাবে ঈদ করতাম, এখানে সেভাবে ঈদ করতে পারছি না কারণ আমরা এখানে মোহাজির ও মুসাফির। এজন্য আমাদের কোনো আনন্দ নেই। তাছাড়া অসংখ্য রোহিঙ্গা কোরবানি পশু পায়নি। যারা পেয়েছে তা নামে গরু, এমন রুগ্ন ও ছোট গরু কোরবানি কোনো সময় রোহিঙ্গা করে না। এখানে আমাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব নয় তাই কিছু করাও নেই।’

দেশী-বিদেশী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের প্রচন্ড চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ করতে পারছে না বলে তারা জানান। শুধু গরু নয়, সবক্ষেত্রেই তারা সাহায্য সহযোগিতার নামে রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে আসছে।

উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সব রোহিঙ্গা শিবিরে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

x