রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকেই নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

কক্সবাজারে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ১০:৪১ অপরাহ্ণ
30
আটকে পড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাসন নিয়ে কক্সবাজারের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। মঙ্গলবার ও বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজারে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
সকালে তিনি কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং শরণার্থী প্রত্যাবাসনে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান আবুল কালাম, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মাসুদ হোসাইনের সাথে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠক শেষে এক প্রেসব্রিফিং-এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকেই নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণেও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।’
এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দিতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি পুনরুদ্ধারেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’
৩ দিনের সফরের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে আরআরআরসি কর্মকর্তাদের সাথে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
তারপর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশানের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। এরপর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার।
গত মঙ্গলবার সকালে বিমানযোগে তিনদিনের সফরে কক্সবাজার আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ওই দিন বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্তের শুণ্যরেখার কোনার পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
বুধবার টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজারের পাওয়ার হাউস এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইপসা’র সেল্টার হোম পরিদর্শন করেন। তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।
x