রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই এখনকার দায়িত্ব

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বক্তারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শুক্রবার , ২২ জুন, ২০১৮ at ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
33

কক্সবাজারে বিশ্ব শরণার্থী দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই এখনকার প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন। গত বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০১৮ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা পরিষদ হলে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক মর্যাদা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

কোস্ট ট্রাস্ট ও কক্সবাজার সিএসওএনজিওফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী, ত্রাণ, প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংবেদনশীল, উদ্বাস্তুদেরকে আমরা অবশ্যই মানবিকতার দৃষ্টিতেই দেখব।

সিএসওএনজিওফোরাম সভাপতি ও পালস কক্সবাজারের চেয়ারম্যান আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার সভাপতিত্বে ও কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক ফোরামের সদস্যসচিব মকবুল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট ট্রাস্টএর পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক। সভার সূচনা বক্তৃতায় মকবুল আহমদ বলেন, ইতিহাসের নানা পর্বে সামরিক জান্তা ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের নির্যাতনে জনগণ যেভাবে নির্যাতিত হন এবং বাস্তুচ্যুত হন তা নানা সময়ে নানাস্থানে ঘটে চলেছে। ১৯৭১ সালে এক কোটি বাঙালিকেও শরণার্থী হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক বাঙ্গালিকেও আরাকানের রোহিঙ্গাদের বাড়িতে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তা যেন আমরা ভুলে না যাই।

প্রধান অতিথির ভাষণ প্রদানকালে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম আরো বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমান বিশ্বে উদ্বাস্তু হওয়ার বিষয়টি রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমানে ৬ কোটি ৮৫ লক্ষ লোক উদ্বাস্তু হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাস করছে। তিনি বলেন, উখিয়াটেকনাফে বাস্তুচ্যুতদের অবস্থানের ফলে জনসংখ্যা ও ভূমির উপর এবং অবকাঠামোর উপর একটা বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ওখানে একটা মানবিক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনার বলেন, সর্বপ্রথমে যখন সরকার বা এনজিওরা প্রস্তুত হয়নি, তখন স্থানীয় জনগণ নিজেদের যা আছে তা দিয়েই রোহিঙ্গাদের সহায়তা করেছেন, প্রাণে বাঁচিয়েছেন।

শরণার্থী কমিশনার বলেন, গত দশ মাস যাবত উদ্বাস্তুদেরকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় জনগণ, এনজিও, আইএনজিও, ইউএন এজেন্সিসমূহ সকলে মিলে পরস্পরের সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে যে কাজ করে যাচ্ছেন সেই বহুধা বিভক্ত কার্যক্রমে আমি শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং সরকারী নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা যেন বজায় থাকে সেটাই দেখছি।

তিনি আরো বলেন, উদ্বাস্তুদেরকে অবশ্যই আমরা মানবিকতার দৃষ্টিতেই দেখবো, কারণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত বছর উখিয়ায় এসে সেকথাই বলে গেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে যতদিন মিয়ানমারের উদ্বাস্তু নাগরিকরা নিরাপত্তার সাথে ফেরত না যাচ্ছেন, ততদিন মানবিক মর্যাদার সাথেই আমরা তাদের সাথে আচরণ করব।

তিনি বলেন, উখিয়াটেকনাফে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু সরকার করবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে অতৃপ্তিবোধের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য জিআরপিতে মোট বাজেটের এক চতুর্থাংশ রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো সংকট শুধু ক্ষতি সৃষ্টি করে না, অনেকসময় সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দেয়। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনএইচসিআরের অপারেশন প্রধান এলিজাবেথ বলেন, স্থানীয় জনগণের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইউএন সংস্থাসমূহ এবং ইউএনএইচসিআর চেষ্টা করে যাচ্ছে। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে। যার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সভায় আরো বক্তব্য দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, অশোক সরকার, ইকরাম চৌধুরী টিপু প্রমুখ।

x