রোকসানা বন্য (ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক বিশ্বঐতিহ্য)

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
26

প্রতিদিন হত্যা, ধর্ষণ, নৃশংসতা জানান দিচ্ছে কোথায় চলেছি আমরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু সেখানেও প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম বিপর্যয় ঘটে চলেছে এই শিক্ষকদের দ্বারা। মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত মারা গেলো। তাকে পুড়িয়ে মারা হলো তারই কলেজের অধ্যক্ষের পছন্দের কিছু মেয়ে দিয়ে। যারা অধ্যক্ষের খুব কাছের। মৃত্যুর আগে সে তার ভাইকে বলে গিয়েছিল কীভাবে তাকে পোড়ালো। কিন্তু কারা পুড়িয়ে দিলো সে দেখতে পায়নি। দেখতে না পাওয়ার কারণ হলো তারা মুখোশে ঢাকা ছিলো। আমি এইরকম বোরকাকে মুখোশ বলি। যারা এটা পরিধান করে তাদের চোখটাও পর্যন্ত দেখা যায় না। তারা দেখতে পাচ্ছে সবকিছু। কিন্তু বাইরের কেউ তাদের চিনতে পারছে না। আমাদের দেশে নানা জাতের নানা বর্ণের মানুষ বাস করে। ছোটবেলায় তেমনভাবে চোখে পড়েনি এমন মুখোশ পরিহিতাদের। তখনও কিন্তু ইসলাম ছিলো। ধর্মের কাজ করতে সবাইকে দেখতে পেতাম। কয়েকবছরে তাদের সংখ্যা বেড়েছে। তাদের দিয়ে যত রকমের অপকর্ম সবই করা যায়। তাদের কেউ চিনতে পারে না এই রাখঢাকের কারণে। ছোটবেলায় শুনতাম যারা খারাপ কাজে লিপ্ত থাকতো তাদেরকে না চেনার জন্য কাজে বেড়োনোর সময়ে তারা এটা ব্যবহার করতো। নয়তো চলাচলে বাধাবিপত্তি ঘটবে। কিন্তু এখন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানে, এমনকি রাস্তাঘাটেও এমন মানুষের সংখ্যা প্রচুর। আমরা তো সৌদীতে বাস করি না। আমরা বাস করি বাংলাদেশে। যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার সাথে সম্মিলিত বাস। বোরকা পড়ুক আপত্তি নেই। কিন্তু মুখোশ কেন? এই বৈশাখের মূলে যেটা তা হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষজন বিভিন্ন ধরনের প্রতিকী শিল্পকর্ম বহন করেন। মুখোশ মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম প্রতীক। মঙ্গল শোভাযাত্রায় এই মুখোশ বন্ধ করা হয়েছে সরকারিভাবে। কিন্তু এই বোরকাপরিহিতা অনেক মুখোশ শোভাযাত্রায় থাকবে। তাদের পরিধানের এই মুখোশ কি খুলতে পারবে প্রশাসন? এটা আমার প্রশ্ন। নুসরাতও বোরকা পরতো। কিন্তু সে তো এই নরপিশাচের কবল থেকে বাঁচতে পারলো না। তাকে যারা পুড়িয়ে মেরেছে তারাও তার মতো মেয়েমানুষ। “প্যাকেট” করলে যে বেহেশতের দরজা খোলা থাকবে আর তাতে সুরসুর করে ঢুকে পড়বে তা কিন্তু নয়। এই ভুল ভাঙতে হবে আমাদের। দিনদিন সংস্কৃতির অঙ্গনকে ছোট পরিসরে নেয়া হচ্ছে শুধুমাত্র এদের কারণে। আমি মনে করি যত সাংস্কৃতিক কাজ বাড়বে ততই দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে। এলো বৈশাখ। প্রতিবছর বাঙালির এই রঙিন উৎসব জানান দেয়, আসছি। বাঙালির প্রতিটি ঘরে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই উৎসবকে। রঙিন হয়ে ওঠে মানুষ ঘরে এবং পোশাকে। রঙের এ খেলা আরো উজ্জ্বল হয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক বিশ্বঐতিহ্য।

x