রেলে চাপ বাড়ছে সড়কে এখনো কম

ঈদযাত্রা

সোহেল মারমা

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
82

ঈদের বাকি আর মাত্র ক’দিন। ছুটির কয়েকটা দিন স্বজনদের সাথে গ্রামে কাটাতে হবে। শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। শহরের কর্মজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ছুটছে গ্রামে। রেলপথে দুদিন আগে থেকে অগ্রিম টিকেটের যাত্রীরা গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। ফলে গতকাল থেকে রেলপথে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক বেড়েছে। আজ বুধবার থেকে চাপ আরো বাড়বে। তবে সড়কপথে এখনো কাঙিক্ষত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। পুরোদমে ঘরমুখো মানুষের চাপ আগামীকাল বা পরশু থেকে বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আজাদীকে বলেন, ট্রেনে এখনো পর্যন্ত যাত্রীদের তুলনামূলক ভিড় নেই। তবে গত ক’দিনের তুলনায় মঙ্গলবার যাত্রী কিছুটা বেড়েছে। ঈদের ছুটি না পাওয়ায় যাত্রীরা এখনো যেতে পারছে না। আশা করছি, বুধবার (আজ) থেকে ট্রেনে যাত্রীর চাপ আরো বেড়ে যাবে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদীকে জানান, ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে ১৩ জুন থেকে দুটি স্পেশালসহ মোট ২৫টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। নির্ধারিত টিকেটের পাশাপাশি যাত্রার দিনে স্ট্যান্ডিং বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকেট বিক্রয় করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ২০ হাজার যাত্রী ঈদ উপলক্ষে যাত্রা করবে। চাঁদপুরগামী ঈদ স্পেশাল১ এবং স্পেশাল২ আজ বুধবার থেকে চলাচল করবে। এ ট্রেন দুটি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে এবং ঈদের পরের দিন থেকে সাত দিন ধরে চলবে। গতকাল মঙ্গলবার আগের দুদিনের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে গেছেন বলে জানান স্টেশন মাস্টার মো. নাজিম উদ্দিন। এতে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ মঙ্গলবার থেকে কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। আজ বুধবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদ কাছে চলে এসেছে। অনেকে আগাম ছুটি নিয়ে আজ বিকাল থেকে রওনা হতে পারেন। এতে ট্রেনে আগের তুলনায় চাপ বেড়ে যাবে। নির্ধারিত শিডিউলে সবগুলো ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সকাল থেকে বিকাল, প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল। এছাড়া সাধারণ ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে নির্ধারিত আসনের পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং টিকেটের যাত্রীরাও রওনা হয়েছেন। গতকাল যারা রওনা হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই গত ৩ জুন সংগ্রহ করা অগ্রিম টিকেটের যাত্রী।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারিবেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু না হওয়ায় যাত্রীরা এখনো বাড়ি ফিরতে পারছেন না। এরপর কেউ কেউ অগ্রিম ছুটি নিয়ে যাত্রা করছেন। এতে করে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে। আগামী ১৫ জুন থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় এর আগের দিন থেকে পুরোদমে যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

গতকাল বিকালে নির্ধারিত ট্রেনগুলোর যাত্রার পরও স্টেশনে বেশ কিছু যাত্রীকে পরবর্তী ট্রেনগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই প্লাটফর্মে সময় কাটান। কেউ কেউ কাউন্টারগুলোতে ভিড় করেন। তবে কাউন্টারগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম ছিল।

কাউন্টারে টিকেট নিতে এসেছেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মচারী কামরুল হাসান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডিং টিকেটের জন্য এসেছি। তবে এখনো টিকেট সংগ্রহ করতে পারিনি।

সাধারণত স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করা হয় ট্রেন ছাড়ার ঘন্টাখানেক আগে। রেলের কর্মকর্তারা বলেছেন, ঢাকার উদ্দেশ্যে গতকাল সকাল ৭টায় ছেড়ে যায় সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস, সকাল ১০টায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর এক্সপ্রেস, বিকাল ৩টায় মহানগর গোধূলী, বিকাল ৫টায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইল সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যায়। এছাড়া ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে, সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ৯টায়, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে। এছাড়া রাতের আন্তঃনগরনহ অন্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়ার অপেক্ষায় ছিল।

এদিকে স্টেশনে রেলওয়ে ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এতে অনেক যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। স্টেশন জুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পৃথক টিম।

এদিকে রেলপথে ধীরে ধীরে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও সড়কপথে সেই তুলনায় যাত্রীরা এখনো যাচ্ছেন না। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, বিআরটিসি মোড়ের অধিকাংশ কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। নিত্যদিনের মতো স্বাভাবিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছে আন্তঃজেলা পথে চলাচলকারী বিভিন্ন বাস কোম্পানি।

আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ১ হাজার বাস দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত আছে। এ সময় সাধারণত ৫০ হাজারের মতো যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। এর আগে প্রতি বছর ঈদে ২০ লাখের মতো যাত্রী পরিবহন করার কথা জানিয়েছেন আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব কফিল উদ্দিন আহমদ। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীদের চাপ থাকবে সড়কপথে।

x