রেডিওলজি ও বার্ন ইউনিটের জায়গা নিয়ে জটিলতা

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
239

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং ইউনিট ও চীন সরকারের অর্থায়নে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মাণে জায়গা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই দুটি ইউনিট নির্মাণে একই জায়গা বরাদ্দ দেয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে। ইতোমধ্যে সমস্যা নিরসনে কয়েক দফা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো ইতিবাচক ফলাফল আসেনি।
পাশাপাশি জায়গাটি দুই দাতা গোষ্ঠীকে ভাগ করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে কোনো পক্ষই রাজী হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট গড়ে তুলতে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয় চীন সরকার। এজন্য ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চমেক হাসপাতাল পরিদর্শন করে। ওই দলকে হাসপাতাল এলাকায় কয়েকটি জায়গা দেখানো হয়। তারা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন জায়গাটি পছন্দ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জায়গাটি দিতে রাজী হওয়ায় বার্ন ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে চীনের আরেকটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শন করে। ইতোমধ্যে বার্ন ইউনিট প্রকল্পের নকশা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। খবর বাংলানিউজের।
অন্যদিকে ২০১৪ সালে চমেক হাসপাতালে রেডিওলজি ও ইমেজিং ইউনিট নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয় জাইকা। কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবে সাড়া দিলে জাইকা কার্যক্রম শুরু করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন খালি জায়গায়টি নির্ধারণ করে দেয় জাইকাকে। সে অনুযায়ী প্রকল্পের অগ্রগতি চালিয়ে যায় সংস্থাটি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষাও শেষ। তবে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে আবারও হাসপাতাল পরিদর্শনে আসে চীনের একটি প্রতিনিধি দল। তখন ওই দলকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জায়গাটির ওপর রেডিওলজি ইউনিট গড়ে তুলবে জাইকা। এরপর রেডিওলজি ও বার্ন ইউনিট নির্মাণে জায়গা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে প্রকল্প দুটির কাজ থমকে যায়।
জানা গেছে, রেডিওলজি ও ইমেজিং ইউনিট প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন হয়েছে। ফলে জায়গা পরিবর্তন করতে হলে আবারও ডিপিপি তৈরি এবং অনুমোদন লাগবে। ইতিমধ্যে এ কাজটি করতে চার বছর সময় লেগেছে। অন্যদিকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট প্রকল্পের জায়গা নির্ধারণ হওয়ায় চীন সরকার অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভবনের নকশা তৈরির কাজ শেষ। এখন জায়গা পরিবর্তন করলে আবারও অনুমোদন নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনকি ভবনের পাশে খালি জায়গাটির আয়তন প্রায় আড়াই হাজার বর্গমিটার। রেডিওলজি ইউনিটের জন্য জায়গা প্রয়োজন দেড় হাজার মিটার। বাকী এক হাজার মিটারে বার্ন ইউনিট নির্মাণ সম্ভব নয়। কারণ ইউনিটটি নির্মাণেও দেড় হাজার মিটার জায়গা বরাদ্দ চেয়েছে দাতা গোষ্ঠী। হাসপাতাল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, মূলত একটি জায়গা দুটি দাতা সংস্থাকে বরাদ্দ দেয়ার প্রতিশ্রুতির কারণে এ জটিলতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে জটিলতা নিরসনে কয়েকদফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে ছিলেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, রেডিওলজি ইউনিট নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মো. মিজানুর রহমান ও চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ।
তবে বৈঠকে জটিলতা নিরসন হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে।এর আগে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। সেখানেও জটিলতা নিরসন হয়নি।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, বার্ন ইউনিট নির্মাণে জন্য এক হাজার মিটার জায়গা নিতে চীনা প্রতিনিধি দলকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে সেটিতে সম্মত হয়নি তারা।

x