রেজাউল করিম স্বপন (মরীচিকার পিছনে ছুটে চলা)

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
19

: যখন থেকে আমেরিকাতে ওপি ১, ডিভি ভিসা এবং কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া এসব দেশে ইমিগ্রেন্ট ভিসা চালু হয়, তখন থেকেই আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সনত্মানেরা এসব দেশে যাওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তারা তাদের মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এসব স্বপ্নের দেশে রঙিন মরীচিকার পিছনে ছুটতে চলে যায়। অজুহাত হিসাবে তখন তারা তাদের নিজের ও তাদের সনত্মানের ভবিষ্যতের কথা বলে। সেসব দেশে যাওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের অড জব করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তা কাউকে বলতে পারে না। দিনে দিনে তাদের বয়সও বাড়তে থাকে এবং তাদের সনত্মানরাও বড় হতে থাকে। আসেত্ম আসেত্ম তাদের রঙিন স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে। এদিকে সময়ের সাথে সাথে তাদের সনত্মানরা সেসব দেশের কালচারে অভ্যসত্ম হয়ে পড়ে এবং আমাদের দেশের কালচার, ভাষা ও ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়। অনেক সময় তারা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি থেকে দূরে চলে যায়। ফলে তারা তাদের সনত্মানদের আর কন্ট্রোল করতে পারে না।একসময় তারা যেসব কাজকর্ম করতেন, বয়সের কারণে তা থেকে অবসর নিয়ে নেন, কিন্তু তত দিনে তাদের সনত্মানরা বড় হয়ে সেদেশের সাদা চামড়ার অন্য ধর্মাবলম্বীর সাথে অনেক ড়্গেত্রে লিভ টুগেদার করতে থাকে ও তাদের থেকে আলাদা থাকে। শত চেষ্টা করেও তাদেরকে তা থেকে ফেরানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে উনাদের স্ত্রীরাও (যেহেতু তাদের চাকরির বয়স থাকে) সকাল বেলা চাকরি করতে চলে যায় আর তিনি সারাদিন ঘরে একা থাকেন এবং প্রায় নিজে রান্না করে খান, আর নিজের মা, বাবাকে একা ছেড়ে আসা ও পরিবারের প্রতি কাছে থেকে দায়িত্ব পালন না করার জন্য অনুশোচনা করতে থাকেন এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একদিন তারা যেভাবে সবাইকে ছেড়ে শুধু নিজের স্বার্থের জন্য দেশানত্মরী হন, শেষ বয়সে ওনারাও সনত্মান বা আত্মীয়স্বজন কাউকে কাছে পান না।এ যেন প্রকৃতিরই প্রতিশোধ। এভাবে ধুকে ধুকে তারা একদিন নিঃস্ব অবস্থায় শেষ হয়ে যায়।

x