রুনা তাসমিনা (আত্মহত্যাও সমাধান নয়)

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
46

‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ বিরহের গান গাইতে গিয়ে সুবীর নন্দী এই গানটি গাইলেও, বর্তমান বাস্তবে এটাই ধ্রুব সত্য। ডা.মোস্তফা মোর্শেদ আকাশ নয়, আরও অনেক প্রাণ এভাবে ঝরে গেছে প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার কাছে প্রতারিত হয়ে। ছয়,সাত কিংবা তারও বেশি বা কম সময়ের প্রেমের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার জন্যে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুটি হৃদয়। কিছুদূর হাঁটার পর কি এমন তিক্ততা ওদের গ্রাস করে যার জন্যে ওরা অন্য পথের পথিক হয়!ওদের ভালোবাসা ভাগ হয়ে যায়! কেউ বেঁচে নেয় বিচ্ছেদ, কেউ আত্মহননের পথ! এর জন্যে কি যোগাযোগের অনেক ধরণের মাধ্যমই দায়ী?নাকি এক ঘেঁয়েমি(?)! এক ঘেঁয়েমি যদি হয় তাহলে কীভাবে যুগের পর যুগ একত্রে ঘর-সংসার করে গেছেন আমাদের পূর্ব পুরুষ? তখন কি তাদের মধ্যে বিবাদ ছিল না! অন্তর্দাহ ছিল না! তবুও তো এত ভাঙনের শব্দ ছিল না কোথাও। আত্মহত্যা বলতেই আঁতকে উঠত মানুষ। তখন প্রেমিক প্রেমিকার বিচ্ছেদে হৃদয় পুড়ত। চোখ জ্বলে ভাসতো।
কোন প্রেমিক বা প্রেমিকা লাশ হতো না। কোথায় এসে পৌঁছেছি আমরা!ঘর একজনের সাথে, মন আরেকজনকে! বাহ! কি অপূর্ব আমাদের বর্তমান সাংসারিক জীবন! একসময় পুরুষদের ওপর এই দোষ চাপিয়ে দেয়া হতো। এখন মেয়েরা মনে হয় তাদের চেয়ে দশগুণ এগিয়ে। অতিরিক্ত মাত্রায় এম্বিসাস হতে গিয়ে আমরা মেয়েরা ভুলে যাচ্ছি স্বামী সন্তানের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য। যতোই উপরে অবস্থান করিনা কেন আমরা ‘নারী’ এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় আছে? আমি সত্যিই মিতুদের মতো মেয়েদের নিয়ে ভাবি। আকাশ তার স্ট্যাটাসে ঠিকই বলেছে, বনিবনা না হলে ছেড়ে দাও। তবুও কারো জীবন নিয়ে খেলা করো না। আকাশ ঠিক বলেছে। কিন্তু আত্মহত্যাও সমাধান নয়। যে তোমাকে ভালোবাসে না তার জন্যে জীবন দেয়া বোকামি। যার জন্যে জীবন দিলে সে তোমার হলে অন্য কারো সঙ্গী হতো? বরং বেঁচে থেকে যুদ্ধ করতে। তাকে দেখিয়ে দিতে, তুমিও বাঁচতে পারো তাকে ছাড়া…।

x