রুদমিলার গুণের কথা

মহিউদ্দীন জুয়েল

শনিবার , ২ জুন, ২০১৮ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
448

ফেসবুকে অনেকগুলো গুণের কথা লেখা আছে তাঁর। বিতার্কিক, স্পোকেন ইংলিশ টিচার, উপস্থাপক, মডেল, ভলেন্টিয়ার….কতো কী!। কিন্তু সদা চুপচাপ, মিষ্টি রংয়ের মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে বোঝাই যায়নি চলার পথে গোপনে গোপনে সৃষ্টিশীল এত্তো কিছু করে বেড়াচ্ছে সে।

বলছিলাম রুদমিলার কথা। পুরো নাম শেখ মনীষা মর্তুজা। পড়ছেন চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউর) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। হওয়ার কথা ইঞ্জিনিয়ার। অথচ স্বপ্ন কিনা আকাশ ছোঁয়ার। সে পথ ধরেই অনেকটুকু হেঁটে চলেছে মেয়েটি।

পুরো শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন রুদমিলার ঘুম ভাঙে তখন কাক ডাকা ভোরে। সকালে পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে সোজা চলে আসে ক্যাম্পাসে। পড়ালেখায় ভীষণ মেধাবী মেয়েটি যতক্ষণ বন্ধুদের ভিতর থাকেন জমিয়ে তুলেন আড্ডা।

দুপুর পেরিয়ে বিকেল হতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজের টাকায় গড়ে তোলা অনলাইন বিজনেস পেইজের কাজ নিয়ে। বাবার কাছ থেকে শেষ কবে টাকা নিয়েছেন ভুলে গেছে রুদমিলা। এই বয়সে নিজের অর্জিত টাকা দিয়েই খরচ চালাতে চান পড়াশোনার।

পড়ালেখায় অন্যদের সহযোগিতা করতে টিউশনি করে বেড়ান। না, এখানেই থেমে নেই তাঁর যাত্রা। জড়িত রয়েছেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। কারো রক্ত লাগছে কিংবা রাস্তার ধারে ঘুমিয়ে পড়া পথ শিশুর গায়ের কাপড় তুলে দিতে হঠাৎ হাজির রুদমিলা। এই দৃশ্য যেন সবার কাছেই পরিচিত।

মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একাধিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে দিনরাত। অলাভজনক এসব সংগঠনে কেবল নিজেই জড়িত হননি, মানুষের পাশে দাঁড়াতে বন্ধুদেরও আহ্বান করছেন ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে। জাগো বাংলাদেশ, ইয়ূথ ভয়েসসহ অনেকগুলো সংগঠনের সক্রিয় কর্মী তিনি। শীত, বর্ষা কিংবা দুর্যোগ। খাদ্য, বস্ত্র নানা সামগ্রী নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন অলিগলি। ভীষণ সময় সচেতন রুদমিলার সঙ্গে যখন কথা হয় তখন নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই হাজির সে।

পড়ালেখার পাশাপাশি এতো কাজে নিজেকে জড়িত রাখো কীভাবে? প্রশ্ন করতেই একগাল হাসি দিয়ে রুদমিলার জবাব, ‘আমার শিখতে ভালো লাগে। প্রচুর জানার ইচ্ছে। প্রতিটি কাজ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। তাই যখন যেটা করি, মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করি।’

কাজ ছাড়া নাকি চলে না রুদমিলার। বাবামা দু’জনেই কর্মব্যস্ত। বাবা মুস্তাজিব মিলু। ব্যবসায়ী। আর ব্যাংকে কর্মরত মা রোজিনা খানই তার অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকে তিনি শিখিয়েছেন মেয়েদের নিজেদের যোগ্যতায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

২৪ ঘন্টার ভিতর ১৬/১৮ ঘন্টাই নাকি ঘরের বাইরে থাকে মেয়েটি। অনেক সময় বন্ধুরাও প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে পায় না। পাবে কী করে। রুদমিলাকে ফোন করলেই যে সে কোনো না কোনো কাজে আছে!

এই মুহূর্তে রুদমিলা মেয়েদের সেনিটেশন সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ান হাটের আজমা খাতুন নামের একটি স্কুলে মেয়েদের স্যানিটেশন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বির্তক করতে ভালো লাগে। উপস্থাপনায়ও সুনাম কুড়িয়েছে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মঞ্চে।

জীবনে প্রথম স্কুলের বাচ্চাদের পড়িয়ে ১০০০ টাকা সম্মানি পেয়েছিল সে। সেটিই নাকি তাঁর স্মরণীয় ঘটনা। লেখক ডেন ব্রাউনের ভক্ত রুদমিলা দুই ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। বড় হওয়ার কারণেই নাকি তার ভিতর সবকিছুতে একটা দায়িত্ববোধ কাজ করে।

x