রিজিয়া রহমান : যাঁর যাওয়া ফিরে ফিরে আসার উপক্রমণিকা মাত্র

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
35

শিল্পোৎসাহী পরিবারে জন্ম, শিল্পিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, মাত্র আট বছর বয়সে দশ লাইনের একটি কবিতা লিখে ফেলা বা দৈনিক সত্যযুগ পত্রিকার ছোটদের পাতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর লেখা কবিতা ছাপা হওয়া এবং সে পাতার পরিচালক গৌরকিশোর ঘোষের উৎসাহ পাওয়ার পরেও একটি লেখক-জীবন ক্রমপরিণতি খুঁজে পাবে বিশেষ করে তিনি যদি হন (নারী-লেখক) এমনটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন, সেকালের পরিপ্রেক্ষিতে তো বটেই। তিনি কিন্তু সাহিত্যমগ্ন এক জীবনে শুধু আপন সাধনা ও শক্তিতে আকাশ ছুঁয়েছিলেন। জীবনের ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়েছেন, মুষড়ে পড়েছেন আবার মাথা তুলে নিজের বৃত্তে ফিরে গেছেন। (সৈয়দ আকরম হোসেনের ‘রিজিয়া রহমান, স্মরণে বিস্মরণে’/ সংবাদ সাময়িকী, ২২, ৮.২০১৯) সে বৃত্ত থেকে তাঁর অনন্ত যাত্রার পরে আমরা জেনেছি ৪৭ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে যে ভিন্ন স্রোত তৈরি হয়েছিল সে স্রোতের তিনি অন্যতম একজন। শুধু তাই নয় সামগ্রিকভাবে আমাদের সাহিত্যের অবস্থানকে একটি বড় স্রোতের দিকে যাঁরা নিয়ে গেছেন তিনি তাঁদেরও একজন। (সেলিনা হোসেনের ‘বিদায় পূর্ণ মগ্নতার কথাশিল্পী’/ বিশেষ লেখা, দৈনিক সমকাল।)
পরিপূর্ণ লেখক জীবনের সূচনা পর্বে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৮) থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে প্রাপ্ত একুশে পদকের মাঝখানে উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু পুরস্কারে তাঁর ডালা ভরেছে কিন্তু তাতে তাঁর বিশেষ কিছু যায় আসেনি। তিনি নানা অনুষঙ্গে, নানান দেশের প্রেক্ষাপটে, বিচিত্র বিষয়ের বেলাভূমিতে রকমারী চরিত্রের সঙ্গে লীন হয়ে এক নিভৃত-নির্লিপ্ত জীবন যাপন করে গেছেন। এসব কথা ঝরা পাতার মতো আজ বাতাসে উড়ছে যখন তিনি আর নেই। স্বয়ং হাসান আজিজুল হক ‘বলেছেন,‘… তার লেখার পাঠ, আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণা ইত্যাদি কেন যে কোন কারণে অনেকটা ছায়াবৃত্ত, সেটা আমি বুঝতে পারি না।’ আমরা কিন্তু পারি। প্রিয় পাঠক, প্রসঙ্গত আরও অনেকের মূল্যায়নের আলোয় তাঁকে আমরা দেখবো ঠিকই কিন্তু আমাদের আজকের ‘গল্প নয়’ এর মূল উপজীব্য হাসান আজিজুল হকের ‘রিজিয়া রহমান/ বহুদূর পর্যন্ত দেখতে পান’ লেখাটি। (সংবাদ সাময়িকী/ ২২.৮/২০১৯)
গত শতাব্দীর ষাটের দশকে আমাদের খ্যাত-কীর্তি লেখকদের অনেকের সঙ্গে রিজিয়া রহমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আশির দশকে তাঁর দিবালোকের মতো উজ্জ্বলতাও ততটা আলো ছড়াতে পারেনি। তাঁকে হারিয়েছি সেটা আমাদের দুর্ভাগ্যই বটে তবে সৌভাগ্য যে তার সমবয়সী সহযাত্রীদের মধ্যে উদার, উজ্জ্বল নক্ষত্রসম হাসান আজিজুল হকের আগে তিনি চলে গেলেন। আজ সৈয়দ শামসুল হক বেঁচে থাকলে তাঁর চলে যাওয়া উপলক্ষে কী বলতেন বা লিখতেন, আদৌ কিছু লিখতেন কি না এমন ভাবনায় কোনো লাভ নেই জেনেও এসব কথা যে আমাদের মনে আসছে সে কিন্তু এমনি এমনি নয়। রিজিয়া রহমান জনপ্রিয় লেখক ছিলেন না নিজেদের গুণে তাকে যারা চিনেছেন জেনেছেন তাঁরাই তাঁর পাঠক ছিলেন। আমাদের সৌভাগ্য যে এ প্রজন্মের বদরুন নাহার বা মোজাফফর হোসেনের মতো উজ্জ্বল দু’চারজন অনুরাগীর দেখা তিনি পেয়েছেন। এঁদের বিমুগ্ধ, বিস্মিত দৃষ্টির প্রসাদ পেয়েছেন বলে শেষ বেলায় নতুন করে নতুন আলোয় তাঁকে উদ্ভাসিত হতে দেখেছি আমরা। কোনো নারীর ক্ষেত্রেই , হাসান আজিজুল হক বলেছেন, লেখিকা শব্দটি, তিনি ব্যবহার করে নি কখনও। কারণ নারীর লেখা বলে আলাদাভাবে তিনি কোনো লেখাকে চিহ্নিত করেন না। বিশেষ করে রিজিয়া রহমানকে তিনি ‘লেখক-ই’ বলেছেন। তাঁর যুক্তি, একজন নারী যখন লিখছেন, যে সঙ্কট নিয়ে লিখছেন তা নারী বা পুরুষ বা উভয়েরই হোক, সমাজেরই হোক তিনি তো কাউকে বাদ দিয়ে বা কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে বা কারও দ্বারা সম্পূর্ণরূপে অধিকৃত হয়ে লিখছেন না। তিনি একজন লেখক হিসেবেই লিখছেন।’ রিজিয়া রহমানের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নারীর কলমকে লেখকের কলমের স্বীকৃতি দিলেন হাসান আজিজুল হক।
তিনি ষাটের দশকে প্রায় নিরুচ্চার রিজিয়া রহমানকে উজ্জ্বলতর করতে গিয়ে নিজের কথা বলেছেন। বলেছেন, ষাটের দশকে ঢাকার অনেকে আমার নামই উল্লেখ করতেন না। মোক্ষম কথাটি এসেছে পরের বাক্যে। ‘ঐ সময়ে একজন মেয়ের বড় সাহিত্যিক হয়ে উঠে আসা এবং এরকম করে নৃতত্ব বা পতিতাদের নিয়ে লেখা, সাংঘাতিক সাহস আর সাধনার ব্যাপার ছিল। আমরা তো কেউই তা করতে পারিনি।’ বড় লেখকদের কারো কারো নাম করতে গিয়েও তিনি করেন নি যাঁদের লেখার সঙ্গে রিজিয়া রহমানের লেখার ‘কোনো তুলনাই হয় না’ কিংবা ‘তুলনা করলে রিজিয়া রহমান অনেক উপরে থাকবেন।’ অথচ তাঁদের লেখা বা সেই লেখকগণ যেভাবে আলোচনায় এসেছেন রিজিয়া রহমানকে সেভাবে আমরা পাইনি। তাঁর প্রতিটি লেখাকে ‘প্রতিভা ও পরিশ্রমের অপূর্ব সমন্বয়ের ফসল’ বলেছেন হাসান আজিজুল হক। বলেছেন, ‘আমাদের কথাসাহিত্যে তাঁর সুপরিণত একটা জায়গা আছে।….সস্তা জনপ্রিয় হবার পথে তিনি কখনও হাঁটেন নি।’ পড়াশোনার পরিধি কতদূর বিস্তৃত হলে ‘বং থেকে বাংলা’ বা ‘রক্তের অক্ষরের মতো উপন্যাস লেখা সম্ভব সে কথাও বলেছেন তিনি। বলেছেন, আমাদের সমাজের যে সমস্ত জায়গাগুলো অন্ধকার হয়ে আছে, ছায়াচ্ছন্ন হয়ে আছে, দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আছে যেখানে অন্য কোনো লেখক পৌঁছুতে পারেন নি, রিজিয়া রহমান সেসব জায়গায় আলো ফেলেছেন। রিজিয়া রহমানের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার গভীরতার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘এই লেখক বহুদূর পর্যন্ত দেখতে পান, যতদূর আমরা পৌঁছুতে পারি না তারও অনেকদূর পর্যন্ত তিনি পৌঁছে যান।’ তাঁর এই সবিনয় মহত্বের কাছে আমরা মাথা নত করি।
রিজিয়া রহমানের দেখার চোখের স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করেছেন হাসান আজিজুল হক। ‘যেভাবে তিনি প্রাচীন থেকে প্রাচীনতম এবং আধুনিক থেকে আধুনিকতম জীবন ও জনপদে বিচরণ করেন…আমাদের সমসাময়িক তো বটেই, তারপরের আরও পাঁচ দশকে কাউকে তেমনভাবে করতে দেখেনি। আমরা প্রসঙ্গত যাঁরা পড়েন নি তাঁদের বদরুন নাহারের ‘রিজিয়া রহমানের আল বুর্জের বাজ প্রসঙ্গ’ লেখাটি পাঠের অনুরোধ জানাই। (উপন্যাসটি যাঁরা পড়েছেন তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।) প্রয়াত সতীর্থের মূল্যায়নে বিশ্বদৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় এনেছেন হাসান আজিজুল হক। সমগ্রের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর স্বাতন্ত্র্যকে চিহ্নিত করে মূল্যায়ন চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, তাঁকে বর্তমান লেখকদের বৃত্তে রেখে বিচার যেমন সম্ভব, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের পাশে তাঁর সাহিত্য বিচার সম্ভব এমন কি বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে তাঁর সাহিত্যের। (প্রসঙ্গত আগ্রহী পাঠকের জন্য: ‘রিজিয়া রহমান/নিজেকে কখনোই সীমাবদ্ধ রাখেন নি’ শিরোনামে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, দৈনিক ইত্তেফাক ২৩.৮.২০১৯।
‘তিনি কেন মহৎ, সাহিত্যে তাঁর সফলতা কী তা চট করে বলার বিষয়? নাকি সময়ই আমাদের বলে দেবে আসলে তিনি কি ছিলেন? বা কী রেখে গেছেন?’ প্রশ্ন তুলেছেন বদরুন নাহার। নিজের প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্নচিহ্নের ধারাবাহিকতায় যে উত্তরগুলো দিয়েছেন আমরা অবশ্যই তার সন্ধানে ঘুরে ফিরে রিজিয়া রহমানের কাছেই যাবো, একবার, দু’বার, বারবার। বদরুন বলেছেন, বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের দৃশ্যপট আগামী প্রজন্মের কাছে উপস্থাপনের জন্য তাঁর সাহিত্যকর্মের মতো বিকল্প উৎসের এত বড় ভাণ্ডার আর কোথায় পাবো? প্রসঙ্গত বলে নিই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেক্ষাপটে রেখে লেখা তাঁর ‘উৎসে ফেরা’ থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কাছেই সাগর’ মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তীকালের গ্লানিময় জীবনযুদ্ধ নিয়ে ‘একটি ফুলের জন্য’ ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে ‘হারুন ফেরেনি’ পড়তে হবে আমাদের। তাঁর ‘রক্তের অক্ষর’ মুক্তিযুদ্ধোত্তর আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার নারীর আশ্রয়হীনতার বিপন্নতার ছবি। মুক্তিযুদ্ধে নিরুপায় ধর্ষণের শিকার শিক্ষিত মেয়েটির প্রতিও সামাজিক বিশেষ করে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবতা উন্মোচনে রিজিয়া রহমানের সাফল্য তাঁর অকপট ও সাহসী চরিত্র চিত্রণের মধ্যেই রয়েছে। বীরাঙ্গনা পরিচয়টি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠায় ইয়াসমীন বলেছে, ‘আমার সম্পর্কে আপনাদের আগ্রহের চেয়ে কৌতূহল বেশি। কারণ আমি সরকারের ‘বীরঙ্গনা খেতাব’ নিয়ে এসেছি।….সরকার বোধ হয় বারাঙ্গনা বলতে ভুলে বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে ফেলেছে। তাহলে কি আজ আমরা বলতে পারি না যে ‘বীরাঙ্গনার’ পরিবর্তে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির আন্দোলন পর্যায়ের লড়াইটি তিনিই শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখনও, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি গত ৩ সেপ্টেম্বর রমা চৌধুরী তাঁর মৃত্যুদিবস উপলক্ষে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে ‘বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী’ পরিচয়ে এসেছেন। রিজিয়া রহমানের বিখ্যাত উপন্যাস ‘বং থেকে বাংলা’ বাঙালির জাতিগঠন ও ভাষার বিবর্তনের গল্প। বেলুচিস্তানের নিপীড়িত মানুষের স্বাধীনতা চেতনার ভাষারূপ আমরা পেয়েছি তাঁর ‘শিলায় শিলায় আগুন’ উপন্যাসে। সাঁওতাল জীবনের আনন্দ-বেদনা, শোষণ-বঞ্চনার কথা পেয়েছি তাঁর একাল-চিরকাল উপন্যাসে। চট্টগ্রামে জলদস্যু ও পর্তুগীজদের প্রেক্ষাপটে লিখেছেন ‘উত্তর পুরুষ’ উপন্যাস। এ উপন্যাসে এসেছে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদারের কথা। সুন্দরবনের অনগ্রসর জনপদকেন্দ্রিক কাহিনী নিয়ে লিখেছেন‘বাঘবন্দী’ উপন্যাস। ঢাকায় মসলিন বুননের ইতিহাস নিয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়কালের প্রেক্ষাপটে তাঁর সৃষ্টি আবে-রাঁওয়া। অভিবাসীদের নিঃসঙ্গতা ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে আমরা পেয়েছি তাঁর ‘সোনার হরিণ চাই’ উপন্যাস। নৃতত্ত্বের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন, ‘শুধু তোমাদের জন্য’ ও ‘পবিত্র নারীরা।’
নদী-ভাঙনে ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে লিখেছেন ‘ঘর-ভাঙা-ঘর’ উপন্যাস। এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস; ছাত্র জীবনে লেখা। মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান থেকে সুফী দরবেশদের সঙ্গী হয়ে ভারতে আসা রিজিয়া রহমানের পূর্ব পুরুষ সম্পর্কে লিখেছেন রুখসানা কাজল। সিল্করুট, ২৩ আগস্ট ২০১৯ এ ‘নিগ্রহের অনুভব্‌ে ছেয়ে আছে মন’ শিরোনামে রুখসানা কাজলের দীর্ঘ লেখাটিতে রিজিয়া রহমানের জীবন ও উপন্যাস সম্পর্কিত আমাদের বেশ কিছু কৌতূহলের উত্তর মেলে।
আমাদের আর একজন উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে রিজিয়া রহমান বলেছিলেন ‘পঞ্চাশের দশকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের অঙ্গনে যে কটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল রাবেয়া খাতুন তাঁদেরই একজন। সেই সময়ের অন্যতম গদ্যকারদের ধারালো কলম তাঁর হাতে। প্রায় ছয় দশক ধরে সদাগতিশীল কলমটি এখনও একইভাবে সচল তাঁর। ……তিনি এখনও আমাদের প্রথম সারির গদ্যকারদের একজন, নিজস্ব শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক। (দৈনিক সমকাল, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫) তাঁর এই মূল্যায়নটি একটি দশক এগিয়ে দিলে তাঁর সম্পর্কেও সমান প্রযোজ্য। বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জনের ৪১ বছর পরে জীবনের প্রান্তসীমায় পৌঁছে তিনি দেখেছেন স্বাধীনতা পদকের মঞ্চ তাঁর হুইল চেয়ারটিকে মঞ্চধন্য করেছে। অল্পের জন্য এ প্রাপ্তি তামাদি হয়ে যায়নি। উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, শিশুসাহিত্য, রম্যরচনা এবং অনূদিত কর্ম মিলে ৩০টিরও বেশি গ্রন্থ এবং অনেক পদক-পুরস্কার এবং অনেক অনেক নীরব অনুরাগী পাঠককে পেছনে রেখে রিজিয়া রহমান সেভাবেই চলে গেলেন যেভাবে তিনি ছিলেন।

x