রিং ওয়ার্ম বা দাদ জাতীয় চর্মরোগ

ডাঃ প্রীতীশ বড়ুয়া

শনিবার , ১১ মে, ২০১৯ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
1538

রিং ওয়ার্ম বা প্রচলিত বাংলায় দাদ-ছত্রাক জাতীয় জীবানুর সংক্রমনে হয়ে থাকে। ছত্রাকের অনেক প্রজাতীর মধ্যে মূলত ডারমাটোফাইট গোত্রটি এই চর্মরোগের জন্য দায়ী। আমাদের দেশে এই রোগটির প্রকোপ খুব বেশি। মোটামুটি সব সময় দেখা গেলেও, গরম ও বর্ষাকালে এই রোগটি মাত্রাতিরিক্তভাবে দেখা যায়।
মাথা থেকে পা অবধি শরীরের যেকোন স্থানে এটি দেখা দিতে পারে। তবে শরীরের গরম এবং ঘামযুক্ত অঞ্চলে বেশি দেখা দেয়। উরু-সন্ধিতে, কোমরে, তলপেটে, বগলে, বুকের নীচে, মাথায়- যেখানে স্যাঁতস্যাঁতে ঊষ্ণতা বিরাজমান সেখানেই এর আক্রমণ দেখা যায়। দেয়ালের স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে যেমন শ্যাওলা পরে এটিও তেমনি একপ্রকার মানবদেহের শ্যাওলা বা ছত্রাক সংক্রমণ। ছত্রাক সাধারণত সুযোগ সন্ধানী জীবাণু। গরম ঘামের মত অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতিতে এরা বংশবিস্তার ঘটিয়ে রোগের ব্যাপকতা বাড়ায়। প্রাথমিকভাবে ছোট এক বা একাধিক গোল বা রিং আকৃতির চর্মচিহ্ন দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে থাকে। রিং এর মধ্যস্থল হাল্কা খসখসে থাকলেও ধারগুলি পাড়-বাধানো উঁচু উঁচু থাকে। তীব্র চুলকানিতে অনেক সময় ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে ঘা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ক্রমাগত চুলকানির প্রভাবে চামড়া মোটা শক্ত হয়ে একজিমার রূপ ধারণ করে।
এই জাতীয় চর্মরোগের কার্যকরি চিকিৎসা বিদ্যমান। মুখে খাবার ঔষধ এবং লাগানোর মলম সহ ছত্রাক-রোধী সাবান শ্যাম্পু রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নির্দেশে নিয়মিত ব্যাবহার প্রয়োজন। ইদানিং লক্ষ্য করা যায়- এই রোগটি প্রায় স্থায়ী বা পুনঃসংক্রমিত হচ্ছে। কেননা অধিকাংশ রোগিবৃন্দ নিজেরাই নিজের চিকিৎসা শুরু করেন, ভাল না হলে ডাক্তারের কাছে আসেন। তাতে করে ছত্রাকশ্রেণি দিন দিন ঔষধ-প্রতিরোধী হয়ে যায়। আবার ডাক্তারের কাছে গেলেও নির্দেশনা মানেননা। রোগ আপাত মিলিয়ে গেলেও চিকিৎসা চালানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননা। অপর্যাপ্ত মলম ব্যবহারও পুনঃ আক্রমণের অন্যতম কারন। মনে রাখতে হবে একবার ব্যবহারের জন্য এক হাতের তালু পরিমান জায়গায় চার ভাগের এক গ্রাম মলম প্রয়োজন। সুতরাং বাজারের প্রচলিত ছত্রাকরোধী পাঁচ/দশ গ্রামের মলম বেশ কয়েকটি লাগতে পারে। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশ যেমন গরম ঘাম ও অপরিচ্ছন্নতাসহ দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতি- রোগের পৌনপুনিক আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই ব্যাপারগুলি মাথায় রেখে চিকিৎসা গ্রহন বাঞ্ছনীয়।

x