রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত নগরজীবন, মুক্তি কবে?

রবিবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
79

পুরো শহর জুড়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি। রাস্তা কাটাকাটি ও ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরবাসীর জীবনযাত্রা। যেখানেই যান, দুর্ভোগ মাড়িয়ে, কষ্ট এড়িয়ে, হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে যেতে হচ্ছে সবাইকে।
এ কথা ভুললে চলবে না যে, নগর জীবন ও পরিবেশের গুণগত মান নির্ভর করে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সেবা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মাত্রার ওপর। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পয়ঃনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, আবর্জনা পরিষ্কার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। কিন্তু দ্রুত নগরায়ন ও নগরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় এসব সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি ও অব্যবস্থা বাড়ছে। এসবের ব্যবস্থাপনা যাঁদের দায়িত্ব তাঁরা তাল সামলাতে পারছেন না।
ঢাকা শহরের পর চট্টগ্রাম ক্রমশ দূষিত নগরীতে পরিণত হচ্ছে। নগরীর বাতাস ও পানি দূষিত হচ্ছে বলে নগরবাসী ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে। বেশিরভাগ নগরবাসী হয়তো জানেনই না যে তাঁরা নিজেরাও তাঁদের নিষ্পাপ সন্তানেরা এই দূষিত বায়ুর কারণে এক ধীর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই শহরে এমন কিছু উপাদান ও পদ্ধতি রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় বাতাস অনবরত দূষিত হয়ে পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণ রাস্তা, যানজট, ফুটপাত দখল, মোটরযানে নিম্নমানের অথবা মবিলমিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পুরনো মোটরযান, ঠাসাঠাসি যাত্রী পরিবহন, পুরনো লক্কর ঝক্কর গাড়ির মতো শিল্প কারখানা, ইটের ভাটা, খোলা জায়গায় কঠিন ও তরল বর্জ্য-আবর্জনা পড়ে থাকা, সেসবের পচন, আবর্জনা পোড়ানো ধোঁয়া ও গন্ধ, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না করা, অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং তা থেকে ধুলো ময়লার বিস্তৃতি, খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ, খোলা পয়ঃপ্রণালী প্রভৃতি দূষিত বায়ুতে গরিব, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ও আমাদের অবোধ শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন রোগে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের বেশি করে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে যে তারা তুলনামূলকভাবে বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করে। তাদের পুষ্টিও কম। আর তাই তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও সাধারণত কম থাকে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা পাওয়ার জন্য সুযোগও তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সব সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে থাকেন যে- এই প্রবণতা অবাধে চলতে থাকলে নগরীর অধিকাংশ নাগরিক কোন না কোন ধরনের অসুস্থতা ও বিপজ্জনক স্বাস্থ্য জটিলতায় আক্রান্ত হবে। সবচেয়ে আশংকার কথা, দূষণের কারণে আমাদের শিশুদের দৈহিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ কথা আজ অনস্বীকার্য যে, নগরের বিস্তার স্বাভাবিক নিয়মে ঘটছে না। জনসংখ্যার প্রবল চাপে নগরগুলো বেড়েছে দ্রুত ও অপরিকল্পিতভাবে। ফলে নগরীতে প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে। যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বস্তি। এমনকি এসব বস্তির ভৌত অবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পানির লাইন, স্যুয়ারেজ প্রভৃতির মতো বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যখন যেখানে এ ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়, সেসব জায়গায় এমন একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যাতে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট ধুলোবালি, ময়লা, আবর্জনা কোথাও স্তূপ হয়ে না থাকে বা চারদিকে ছড়াতে না পারে। নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। আমরা আর ধুলোয় মলিন হতে চাই না, বিষাক্ত বায়ু সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়তে চাই না। সুন্দর স্নিগ্ধ পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মুক্ত বায়ুতে আমরা নিঃশ্বাস ফেলতে চাই।

x