রাসু বড়ুয়া (কৃতজ্ঞতাবোধ)

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
15

: মানুষ সামাজিক জীব। জীব মাত্রই একে অপরের উপর নির্ভরশীল। গাছ ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচেনা, মানুষ ছাড়া তেমন গাছও বাঁচে না। বাঁচার তাগিদে কখন কোন মুহূর্তে কার প্রয়োজন বা সাহায্য পড়ে তা কেউ বলতে পারে না। সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে গেলে কারো না কারো উপকারে কেউ না কেউ উপকৃত হয়। কিন্তু সমাজ বড়ই বিচিত্র। বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে বিশেষ করে কাছের মানুষ সহসাই উপকারের রেশটুকু ভুলে যেতে বা মুছে ফেলতে চেষ্টা করে। উপকারের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার দূরে থাক, স্বপ্ন দেখে উপকারীকে ডিঙিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি কীভাবে করা যায়। মিথ্যার নানা বেসাতি সাজিয়ে লিপ্ত হয় উপকারীকে কুপোকাত করতে। মিথ্যা অতি সহজ। মিথ্যাকে আলিঙ্গন করে সত্যকে ধামাচাপা দিতে মানুষ হাজারো চলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। সামান্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ যাদের নেই তারা নিজেদের মধ্যে সাময়িক আনন্দ ভাগাভাগির উন্মত্ততায় মত্ত থাকে। সত্যের জোর, হাজারো মিথ্যার চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী।
মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ মাত্রই সত্যের উপর ভর করে চলতে চেষ্টা করে। হাজারো বিপত্তি আসলেও তা ডিঙিয়ে একসময় সুখের নির্যাস আস্বাদন করে ঠিকই। এতে একপ্রকার মানসিক পরিতৃপ্তি পাওয়া যায়। যাপিত জীবনে কৃতজ্ঞতাবোধ চলার পথের নিয়ত সহচর। এই কৃতজ্ঞতাবোধ আজকাল আমরা হারাতে বসেছি নিছক স্বার্থের জন্য। ফলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। অকৃতজ্ঞ যেই হোক দীর্ঘমেয়াদী কোন সুফল ঘরে আনতে পারেনা। আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশেও কেউ কারো কাছে ছোট হয়ে যায়না বা কেউ কাউকে ছোট করে না। বিবেকবোধে কৃতজ্ঞচিত্ত জাগরিত হোক সবার অন্তরে।

x