রাতের মধ্যেই ‘সাফ’ নগরী

দুদিনে সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য অপসারণ

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১৫ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
140

নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে এবার কোরবানি পশুর সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে প্রথম দিন (গত সোমবার) পাঁচ হাজার টন এবং পরদিন মঙ্গলবার বাকি আড়াই হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পুরো শহরকে চারটি জোনে ভাগ করে চলে এ বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। কোরবানি পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত আড়াই হাজার টন গৃহস্থালী বর্জ্যও অপসারণ করা হয়েছে। সংস্থাটির পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে নগরীতে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য চসিকের পক্ষে ৩৪১টি স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব স্থানে পশু জবাইয়ে তেমন আগ্রহ দেখাননি কোরবানিদাতারা। এদিকে গত চার বছরের তুলনায় এবার কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে সবচেয়ে সফল বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানিদাতার সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে বেড়েছে বর্জ্যের পরিমাণ। তবু দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করে পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি নিজেই সবকিছু মনিটরিং করেছি।’
কয়টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, ‘প্রথমদিন বিকেল ৫টার মধ্যে প্রধান প্রধান সড়ক এবং অন্যান্য সড়ক থেকে রাত ৮টার মধ্যে বর্জ্যগুলো অপসারণ করা হয়েছে। কিছু অলি-গলি ছিল যেখানে বর্জ্য অপসারণের গাড়ি প্রবেশের জায়গা ছিল না। তবে সেখান থেকেও দ্রুত সময়ে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। এসব অলিগলি থেকে বর্জ্য অপসারণে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করেছে আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। দ্বিতীয় দিন বিকেলের মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতার কারণেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমাদের আহবানে সাড়া দিয়েছেন নগরবাসী। তারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার বর্জ্য অপসারণে কাজ করে চসিকের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক। কোরবানিকৃত পশুর নাড়ি ভুঁড়ি ও উচ্ছিষ্ট অংশ অপসারণে ব্যবহার করা হয় ২৭৩টি বিভিন্ন ধরনের যান। বর্জ্য অপসারণের পর শহরকে জীবানুমুক্ত করতে প্রায় ১৫টন ব্লিচিং পউডারও ছিটানো হয়েছে। পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে গতি আনার জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা ছিল চসিকের ‘কন্ট্রোল রুম’। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর কোরবানের আগেই লিফলেট ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নগরবাসীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কোরবানির প্রথমদিন এবং দ্বিতীয় দিন এসব নম্বরে কল দিয়ে স্থানীয় লোকজনও বর্জ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান।
এদিকে কোরবানির দিন গত সোমবার বিকেলে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন নগরীর বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। আলমাস সিনেমা মোড় থেকে কাজীর দেউড়ি হয়ে লাভ লেইন মোড় এলাকা, জুবলী রোড, নিউমার্কেট সদরঘাট, আলকরণ, কোতোয়ালী মোড়, লালদিঘী, বঙিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন মেয়র। এছাড়া তিনি বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে গঠিত চারটি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরদের সাথে সার্বক্ষণিক মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী দৈনিক আজাদীকে বলেন, দুইদিনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছি। কোন গাফিলতি ছিল না আমাদের।’ মূল সড়কের বাইরে বিভিন্ন অলিগলিতে বর্জ্য অপসারণে গতি কিছুটা কম ছিল, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকটি এলাকা থেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের এ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাজে কোন স্লো ছিল না।’ নির্ধারণ করে দেয়া স্থানে কি পরিমাণ পশু জবাই হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাড়া তেমন পাওয়া যায়নি। পাঁচ শতাংশ কোরবানিদাতা নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করেছে। এবার কোরবানিতে প্রথমদিন নগরীতে আনুমানিক ১ লক্ষ ৭০ হাজার এবং পরদিন আরো ২০ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে বলেও জানান এ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা।
চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, সকাল ৯টা থেকেই নির্ধারিত স্থানে আমরা বর্জ্য পরিবহনের জন্য যানবাহন পাঠিয়ে দিয়েছি। দিনশেষে শতভাগ সাফল্য এসেছে আমাদের।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় লোকজন বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল বাপ্পী দৈনিক আজাদীকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়েছে চসিক। ফলে দুর্গন্ধ থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।

x