রাজস্ব আদায়ে ২১ বছরের রেকর্ড ভাঙলো বাংলাবান্ধা

মঙ্গলবার , ১২ জুন, ২০১৮ at ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
91

পণ্য খালাসে রাজস্ব আদায়ে ২১ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এ বন্দরে ২২ দিনে লেবার হ্যান্ডেলিং থেকে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা।

এর আগে বন্দরে শ্রমিক স্বল্পতার কারণে পণ্য আমদানিরপ্তানিতে দীর্ঘদিন ব্যাহত হয়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। শ্রমিক নিয়োগের কারণে অবশেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের এ সমস্যার অবসান ঘটলো।

সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। চার দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চারশ’ ট্রাক পণ্য আমদানিরপ্তানি হচ্ছে। খবর বাংলানিউজের।

দীর্ঘদিন লেবার হ্যান্ডেলিং এর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে ইজারাদার নিয়োগ না করায় আমদানিরপ্তানি কার্যক্রম শুরুর ২১ বছরে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। তাই বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকারি নির্দেশ ক্রমে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ বছরের জন্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইজারা দেওয়া হয়।

গত ৯ মে বুধবার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, আমদানি ও রপ্তানিকৃত সব পণ্য বাংলাবান্ধার অভ্যন্তরে প্রবেশের পর কাস্টমস ছাড়পত্র ইস্যুর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী লোড আনলোড চার্জসহ যাবতীয় বন্দর চার্জ পরিশোধের পর পণ্যের গেট আউট পাস ইস্যু করা হবে। এমন সংবাদে একটি মহল বন্দরে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বিফল হয়।

এটিআই কাজ শুরুর পরে প্রতিদিন বন্দরে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। দিন দিন বাড়ছে পণ্য আমদানির গাড়ির সংখা। শনিবার ৯ জুন পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকেছে ২৫২টি। গত শুক্রবার ৮ জুন গাড়ি ঢুকেছিল ২০৮টি। বন্দরে লেবার স্বল্পতার কারণে সুষ্ঠু কাজ পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে গত ৯ জুন বন্দরে নতুন করে ২৪৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি রাজ ২৩০৫ এর ২৮০ জন এবং রেজি নং রাজ ২৬৩৪ এর ১৫৪ জন মোট ৪৩৪ জন শ্রমিক এখন থেকে বন্দরে এটিআই লিমিটেডের অধীনে কর্মরত থাকবেন। আর স্থলবন্দরে ২১ বছরে রেকর্ড ভেঙে এটিআই কাজ শুরুর ২২ দিনে লেবার হ্যান্ডেলিং থেকে সরকার প্রায় ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। যেটা বিগত ২১ বছরে পায়নি সরকার। এই টাকাটা সরকার লেবার হ্যান্ডেলিং বাবদ গ্রহণকৃত ১০৪ টাকার শতকরা ৪০ ভাগ হিসেবে সরাসরি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, বন্দরে পণ্য খালাসের জন্য ট্রাকের দীর্ঘ সারি জমে থাকতো। আমরা লেবারের জন্য দুর্ভোগের শিকার হয়েছি।

জেলা আমদানিরপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদি হাসান খান বাবলা জানান, আজকে নতুন লেবাররা পরম উৎসাহ নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মামুন সোবহান জানান, সব বন্দরের জন্য যা নিয়ম বাংলাবান্ধার জন্যও তাই করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) হাবিবুর রহমান বলেন, কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি সুবিধা না পেয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদি কোনো ব্যবসায়ী বন্দরে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এ বন্দরে লোডআনলোড নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়েছে। গত ২২ দিনে লেবার হ্যান্ডেলিং থেকে প্রায় ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

x