রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
108

চট্টগ্রাম কাস্টমসে চলতি ২০১৭১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাইডিসেম্বর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২২ হাজার ২৮৫ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে এক হাজার ৬১৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস।

তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২০১৬১৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যে ঘাটতি আছে মার্চএপ্রিলের দিকে সেটি পূরণ হয়ে যাবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ৯টি সেকশন ও ৫টি সাবসেকশনে বিভক্ত করে পণ্যের শুল্কায়ন করে রাজস্ব আদায় করা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৫() সেকশন থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৫২ দশমিক ২৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৩ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা কম। সেকশন ৫(বি)-তে আদায় হয়েছে ৩৩১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া সেকশন ৭()-তে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৪৮ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৪৮ কোটি কম। ৭(বি) সেকশনে প্রথম ছয় মাসে অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৪৪২ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১১ দশমিক ৫৪ কোটি কম। ৮() সেকশনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার ২৮৬ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা, কিন্তু প্রথম ছয় মাসের রাজস্ব আদায় হয় ২ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। সেকশন ৮(বি)-তে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ২৭৬ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ দশমিক ৯০ কোটি টাকা। ৯() সেকশনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৮৫ দশমিক ২৭ কোটি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪৪ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা কম। সেকশন ৯(বি)-তে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৫০০ দশমিক ১২ কোটি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৪ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া ৯(সি)-তে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪৩ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৮ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা কম। এছাড়া পাঁচটি সাবসেকশনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯ হাজার ২৮৬ দশমিক ৬৪ কোটি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২২৯ দশমিক ৪ কোটি টাকা কম। অপরদিকে রপ্তানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২৩ কোটি টাকা বেশি।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমসে আমদানিরপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। জনবল সংকটের মাঝেও কাজের গতিশীলতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ রাজস্ব আদায় হয় আমদানি খাত থেকে। তবে রপ্তানির হারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। শুল্ক ফাঁকি দেওয়া কিংবা মিথ্যা ঘোষণায় যাতে কেউ পণ্য আমদানি করতে না পারে সেজন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. একেএম নুরুজ্জমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ভর করে আসলে আমদানির ওপর। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকলেও সেটি গত অর্থবছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আরো বাড়ানোর জন্য কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা রাতদিন কাজ করছেন। তিনি বলেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ কিছু আমদানি করতে না পারে সেজন্য আমরা সতর্কতার সাথে পণ্যের শুল্কায়ন ও কায়িক পরীক্ষা করছি। আশা করি, আগামী মার্চএপ্রিলের মধ্যে প্রথম ছয় মাসের যে ঘাটতি আছে, সেটি পূরণ হয়ে যাবে। একই সাথে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।

x