রাজপথে আওয়ামী লীগ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
91

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ১৪ দলের নেতারা। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ থেকে রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা। গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে ১৪ দলের নেতারা এই আহ্বান জানান। সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘হাওয়া ভবনে বসে যে ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা করেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি জাতি প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ সাজা আমরা পাইনি। এরপরও আমাদের আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। এই জাতির হৃদয়ের আর্জি নিশ্চয় উচ্চ আদালত বিবেচনা করবেন।’ রায় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল। আমরা রাজপথে থেকে সেই পরিকল্পনা রুখে দিয়েছি। ১৪ দলের ঐক্য একটি আদর্শিক ঐক্য। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমে রাজপথের ঐক্যকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে রক্ষা করব।’ নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘যারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে তাদের শক্তি শেষ হয়ে যায়নি। অনেকে মুক্তিযুদ্ধের লেবাস ধরে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এই অপশক্তি থেকে মুক্তি পেতে ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ এছাড়া রায় ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানান মাহতাব উদ্দীন। ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এড. আবু হানিফ বলেন, ‘১৪ দল রাজপথে ছিল, রাজপথে আছে এবং রাজপথেই থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য আজ সময়ের দাবি।’
জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল বলেন, ‘আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। ক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের আরও একটি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক তাজুর মল্লুক বলেন, ‘১৪ দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক একটি আদর্শিক রাজনৈতিক জোট। জাতির প্রয়োজনে এই দল যেকোনো সময় রাজপথে গর্জে উঠার শক্তি রাখে।’
জাতীয় পার্টি (জেপি) মহানগর শাখার আহ্বায়ক আজাদ দোভাষ বলেন, চট্টগ্রামে ১৪ দল রাজপথ ছাড়েনি। নগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, জাসদের মহানগর শাখার সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক, সাম্যবাদী দলের অমূল্য বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের কাজী আহসানুল মোরশেদ আলকাদেরী, গণ আজাদী লীগের নজরুল ইসলাম আশরাফী, ন্যাপের মিঠুল দাশগুপ্ত এবং গণতন্ত্রী পার্টির স্বপন সেন বক্তব্য রাখেন।

এদিকে বৃষ্টি উপক্ষো করে গতকাল সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের ৪১ ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। রায়কে কেন্দ্র করে কেউ যাতে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগেই ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এই জোট। এছাড়া এই রায়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ১৪ দলের পাশাপাশি রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করে নগর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগ।
মহানগর আ.লীগ : নগরীর দারুল ফজল মার্কেটস্থ কার্যালয় সম্মুখে সমাবেশ করে মহানগর আওয়ামী লীগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, সংগঠনের সহ-সভাপতি এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রশীদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের, উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মনসুর, হাজী বেলাল আহমদ, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, অমল মিত্র, থানা আওয়ামী লীগের মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, কাউন্সিলর তারেক সোলাইমান সেলিম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আবদুর রহমান, সলিমউল্লাহ বাচ্চু, আফছার উদ্দিন চৌধুরী, ফজলে আজিজ বাবুল, আশফাক আহমেদ, সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদ, আনিসুর রহমান ইমন, সাখাওয়াত হোসেন স্বপন প্রমুখ।

দক্ষিণ জেলা আ.লীগ : দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যে মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, এই হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও বলেছেন, তারেক-হারেস চৌধুরীরা এর পরিকল্পনাকারী। তাই এদের ফাঁসির রায় না হলে জনঅসন্তোষ থেকেই যাবে। তিনি এদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, ক্রীড়া সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, ত্রাণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হায়দার শাহীন, উপ দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া, ওমর ফারুক, শাহিদা আক্তার জাহান, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা এম এন ইসলাম, এস এম ছালেহ, নুরুল আবছার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, আবদুল হান্নান লিটন, দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, মহিলা আ.লীগ নেত্রী খালেদা আক্তার চৌধুরী, ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন।
উত্তর জেলা আ.লীগ : উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তবুও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের দাবি, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আপীলের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।’ গতকাল দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. জসিম উদ্দিন, ইউনুস গণি চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র দেবাশীষ পালিত, দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন বাবলু, প্রচার সম্পাদক জসিম উদ্দিন শাহ, আইন সম্পাদক এড. ভবতোষ নাথ, কার্যনির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস, মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, জাফর জাফর আহমেদ, ফোরকান উদ্দিন আহমদ, মো: সেলিম উদ্দিন, দিলোয়ারা ইউসুফ, শফিকুল ইসলাম, এস.এম রাশেদুল আলম, এড. বাসন্তী প্রভা পালিত। সমাবেশ শেষে তারেক রহমানের ফাঁসির দাবি জানিয়ে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মহানগর যুবলীগ : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর যুবলীগের অবস্থান কর্মসূচি দারুল ফজল মার্কেট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো: মহিউদ্দিন বাচ্চু। নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহাবুব আলম আজাদ, শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, নেছার আহমদ, আবু সাঈদ জন, হেলাল উদ্দিন, হাবিব উল্লাহ নাহিদ, নুরুল আনোয়ার, আবদুর রাজ্জাক দুলাল, প্রবীর দাশ তপু, আবদুল আজিম, মঈনুল ইসলাম রাজু, আবু বক্কর চৌধুরী, রতন মল্লিক, শেখ নাছির আহমেদ, সনত বড়ুয়া, আবু বক্কর সিদ্দিক, হাজী মো: ইব্রাহিম, আজিজ উদ্দিন, ইকবাল ইকরাম শামীম, ইসতিয়াক আহমদ চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলো। উপস্থিত ছিলেন তারেক ইমতিয়াজ ইমতু, আবদুল মালেক, আবছার উদ্দিন, হাজী আবদুল মান্নান, শাহীন সরওয়ার, সাজু বিশ্বাস, আতিক উল্লাহ, ফসিউল আলম সমির, আসলাম কামাল, জয় শংকর, গোলাম মোস্তফা মোস্তাক, মো: হিরু, সৈয়দ রবি, কামরুল ইসলাম, আবু জায়েদ মনি, সাইফুল করিম, আরিফুল ইসলাম মাসুম, মো: সাসইফুল, মো: সামাদ, মো: ছগির, আবদুল আজিম, মাহতাব, মো: হিরু প্রমুখ। সভাশেষে রায়কে স্বাগত জানিয়ে মহানগর যুবলীগের মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দারুল মার্কেট চত্বরে এসে শেষ হয়।
জামালখান, আন্দরকিল্লা, বঙিরহাট ও দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড :
জামাল খান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাশেম বাবুলের সভাপতিত্বে জামালখান, আন্দরকিল্লা, বঙিরহাট ও দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের যৌথ আয়োজনে গণঅবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব সিদ্দিকী ও জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলমের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মানস রক্ষিত, শেখ শহীদুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ টিপু, ইকবাল হাসান, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, মহিলা কাউন্সিলার আঞ্জুমানারা বেগম, ফয়েজুল্লাহ বাহাদুর, চিত্ত সরকার, মো: সৈয়দুল আলম, মো: জাহাঙ্গীর আলম, বাবু মৃদুল দাশ বাবুল দেব রায়, রঞ্জন রশ্মি বড়ুয়া, অধ্যাপক শফিউল বশর, মো: আব্দুস সবুর, মো: ইসমাইল, মো: আহসান উল্লাহ, কাঞ্চন চৌধুরী, মো: ইমতিয়াজ, সাইফুদ্দিন খালেদ রানা, কাজী আনোয়ার হাফিজা মোনায়েম, সাইফুল ইসলাম সাইফু, জামাল উদ্দীন খান, এস, এম আলমগীর, মোক্তার হোসেন, আমিন মিয়া, দিদারুল আলম, ননী গোপাল চৌধুরী চঞ্চল, তারেক হায়দার, বাবু সলিল চৌধুরী, কেশব আচার্য্য।

x