রাজনৈতিক নেতাদের সুন্দর সুন্দর কথামালা প্রসঙ্গে

শুক্রবার , ২০ জুলাই, ২০১৮ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
55

আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সিংহভাগ কথা সাধারণ মানুষ শোনে, তবে বিশ্বাস করে খুব কম। এর কারণ, রাজনৈতিক নেতাদের বেশিরভাগই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেয়ে সুন্দর সুন্দর কথামালা দিয়ে জনগণকে মুগ্ধ করতে দক্ষ বেশি। ফলে নেতাদের কোন বক্তব্য সঠিক আর কোনটি শুধু কথার কথা, এনিয়ে জনগণকে বরাবরই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে হয়।

বিশ্বাসঅবিশ্বাসের এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিজেদের বোধ বুদ্ধি দিয়েই তারা সিদ্ধান্ত নেয়। আবার নেতাদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তবে তারা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তা দিয়েও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমাদের দেশে এটা রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে। যে দেশে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। সে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা ধীর হয়ে পড়ে। জনগণকে যদি কেবলই রাজনৈতিক নেতাদের কথামালা শুনতে হয় তাদের মুগ্ধ করার চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে। একটা বিষয় ঠিক, জনসাধারণ রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে দ্বিধায় থাকলেও তাদের ‘মেঠো বক্তব্য’ সত্যিকারের কিছু বক্তব্যও থাকে। তা না হলে দেশ একেবারে স্থবির হয়ে পড়ত।

নেতাদের ‘মেঠো বক্তব্য’র মধ্যেই তাদের বক্তব্যের সত্যাসত্য লুকিয়ে থাকে। কাটছাঁট করে এ বক্তব্যের নব্বই শতাংশ বাদ দিলে যে দশ শতাংশ বাকি থাকে। তাই তাদের কাজের বক্তব্য। নেতাদের এই দশ শতাংশ বক্তব্য নিয়েই দেশ চলছে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, দেশ কতটা ধীর গতিতে এগুচ্ছে। এই যে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হয়েছি, আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চ মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হবে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে এসব বক্তব্যের পুরোটাই কি সঠিক? নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশের কথা যদি ধরা হয়, তবে বলতে হবে, এটা দশ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চ মধ্যবিত্তের দেশে পরিণত হওয়ার বিষয়টি আশাবাদের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে আশার ফানুস ধরাই ভাল। রাজনীতি নিয়ে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের হিসেব সহজ এবং মৌলিক। ক্ষমতায় কে থাকল, তা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। ক্ষমতায় থেকে যে দল তাদের তিন বেলা খাবারসহ জীবনযাপন সহজ করে দিতে পারে, সে দলই তাদের কাছে ভাল। নিজে স্বাচ্ছন্দে চলার পর রাজনীতির অন্যান্য জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। পেরেশানির জীবনযাপনে থাকলে যত আশার কথাই শোনানো হোক না কেন, তা তাদের শুনতে ভালো লাগে না।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x