রাজনীতি ও আদর্শ

রবিবার , ৪ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
13

‘রাজনৈতিক নেতা কর্মী’ খুন হওয়ার সংবাদ প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আদর্শের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে একটি গণতান্ত্রিক দেশে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আদর্শের ভিন্নতার জন্য খুন করা হবে এমন ব্যাপার কখনো কাম্য নয়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তেমনি সৃষ্টি হয় ভীতিকর পরিবেশ। দেখা যায়, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। আবার বড় ধরনের কোন অপরাধ সংঘটিত হলে তার দায় বরাবরই অস্বীকার করেন দলের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও বেশির ভাগ চাঁদাবাজি নিয়েই মূলত: দ্বন্দ্ব হয়। দলীয় কোন্দল, হত্যা ও গ্রুপিং, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রায়ই সংঘটিত হয়। অনেক সময় কোন্দল মেটাতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেও কোন ফল হয় না। এদের কাছে আদর্শের চেয়ে অর্থের গুরুত্ব বেশি। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ।
প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গ্রুপ-উপগ্রুপের জন্ম দিচ্ছে। হিসেব করলে হয়তো দেখা যাবে আত্মকলহকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রশ্ন হলো নামধারী এই নেতাকর্মীর সংখ্যা এত বেশি যে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব নয়? প্রশ্ন আরো ওঠে শীর্ষ নেতারা এ সমস্যার সমাধানে আদৌ কি আন্তরিক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ? তাহলে কেন সংগঠন এসব অপকর্মের দায় বহন করবে? এসব নেতাকর্মীদের যে কোন মূল্যে সামলানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংগঠনের আত্মবিনাশী নেতাকর্মীরা কেবল নিজেদের সর্বনাশ করছে না। দেশ জাতিরও সমূহ ক্ষতিসাধন করছে। যে করি হোক এ পথ থেকে তাদের ফেরাতে হবে।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x