রাজনীতিবিদদের মানবিক চেতনা

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
13

দেশের রাজনীতি হতে হবে সর্বোৎকৃষ্ট নীতি দ্বারা পরিচালিত। উদার, সহনশীল ও মানব কল্যাণমুখী নীতি দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। রাজনীতিকরা জনগণের কল্যাণের সাথে নিজের কল্যাণকে অভিন্ন জ্ঞান করবেন না। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক রাজনীতিক কখনোই নিজের সুখকে প্রাধান্য দিবেন না। তার কর্মকান্ডে মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবে সদা আবর্তিত হবে। মানুষের দুঃখ কষ্ট বৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকলে তাকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে দোষী হতে হবে। ভোট নেবার সময় একজন রাজনীতিক নানারকম চটকদার ও আকর্ষণীয় ওয়াদা দেন, দলীয় ইস্তেহার জনকল্যাণমুখী অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়া রাজনৈতিক দলের অভ্যাস, বাস্তবে দেখা যায়, জনকল্যাণের চেয়ে নিজের কল্যাণে বেশি মনোযোগী ও তৎপর। জনসেবার বদলে নিজ ও গোষ্ঠী সেবায় এ দেশের রাজনীতিকরা সদা ব্যস্ত থাকেন। নির্বাচনের সময় দেয়া সুন্দর সুন্দর কথাগুলো ভুলে নিজের সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যস্ত থাকেন। পাঁচ বছরে দেখা যায় মন্ত্রী, এমপি ও তাদের অনুসারীদের সম্পদ বৃদ্ধি জ্যামিতিক হারে হয়। সম্পদ বৃদ্ধির কারণ দেখাতে গিয়ে মাছ চাষ, চিংড়ি ঘের, লবণ চাষ প্রভৃতি খাত দেখানো হয়। কারও সম্পদ বৃদ্ধি ৫ গুণ ১০ গুণ ১০০ গুণ ৫০০ গুণ পর্যন্ত ঘটে। রাজনীতিকদের মান সাংঘাতিক ভাবে ধসে পড়েছে। তারা আর নীতির ধার ধারেন না। এটিকে সেবামূলক কর্ম না ভেবে, সম্পদ আহরণের ব্যবসা হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নীতি, নৈতিকতা উচিত-অনুচতি শব্দগুলো নির্র্বাসিত হয়েছে। রাজনীতিকদের কর্মকাণ্ড দেখে যুব সমাজ পর্যন্ত রোগাক্রান্ত হয়েছে। অনেক ছাত্র অতি অল্প সময়ে কোটিপতি হয়েছে বলে শোনা যায়। বিনা পরিশ্রমে কোটি পতি হবার লোভে ছাত্র নেতারা লেখাপড়া শিকেয় তুলে রেখে। বাণিজ্যে নেমে পড়েছে। ধান্দা করে তারা অনেকে কোটি কোটি টাকা রোজগার করছে। তা দেখে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হয়ে একই কাজে জড়িয়ে পড়েছে। সুনীতি, সুবচন, তাদের কাছে তিতো লাগে, বরং টাকা উপার্জনের পথগুলো সকলে আঁকড়ে ধরতে চায়। ফলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা এবং তা থেকে কলহ, বিবাদ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া মারামারি ও দলীয় কোন্দলে শত শত প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। এক বুক আশা নিয়ে ছেলেকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে পিতা-মাতা ভাবেন ছেলে মানুষ হয়ে ফিরে এলে তাদের দুঃখ-কষ্টের অবসান হবে। মানুষ হয়ে ফেরার বদলে যখন লাশ হয়ে ফিরে তখন তাদের দু:খের সীমা থাকে না। রাজনীতির শিকার এসব তরুণ যুবক-নিজেদের ভালো-মন্দও বোঝে না। লেখাপাড়া বাদ দিয়ে টাকা বানাতে গিয়ে অকালে ঝড়ে পড়ছে। রাজনীতিবিদদের সম্পদ লিপ্সা ও ক্ষমতালিপ্সা বাংলাদেশের রাজনীতিকে ব্যধিগ্রস্ত, জরাগ্রস্ত ও পঙ্গু করে ফেলছে। রজনীতিকে পরিশীলিত ও জনপ্রিয় করার কোন তাগিদ তাদের মধ্যে দেখা যায় না।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x