রাঙ্গুনিয়ায় অবশেষে খুলে দেওয়া হলো সেই স্লুইচগেট

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
17

দেড় মাস আগে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্লুইচগেটের ফটক খুলে দিতে ইউএনওর কাছে আবেদন করেন। ইউএনও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের রশি টানাটানিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্লুইচগেটের ফটক খুলে না দেওয়ায় টানা ভারী বর্ষণে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। ডুবে যায় বসতঘর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক।
অবশেষে গত ৯ জুলাই দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের কুরমাই খালের স্লুইচগেটের ফটক খুলে দেওয়া হয়। রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ এ সময় সহযোগিতা করে। ফটক খুলে দেওয়ার সময় দুই গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল খালেক ও তাপস কুমার দে বলেন, স্লুইচগেটের ফটক বন্ধ থাকায় কয়েক বছর আগে পুরো গ্রাম ডুবে যায়। এবার প্লাবনে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ডুবে যায়। স্লুইচগেট খুলে দেওয়ায় পানি নেমে যাবে। ক্ষতির পরিমাণ কমবে।
হোছনাবাদ ইউনিয়নের নিচিন্তাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা বলেন, স্লুইচগেটের ফটক খুলে দেয়ার কারণে নিচিন্তাপুর গ্রামের নিচু এলাকার বাড়িঘর ডুবে যাবে। সব ফটক খুলে না দিয়ে অল্প অল্প পানি ছাড়লে হয়তো সমস্যাটা হত না।
স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জনসাধারণের স্বার্থে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলা হলেও তার বিষয়টি মাথায় নেয়নি। বর্ষা আসার আগে ফটকগুলো খুলে দিলে এ সমস্যা হত না।
হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মির্জা মো. সেকান্দর হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগে প্লাবনে আমার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ডুবে যায়। সেসময় ডুবে যাওয়া সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে ৫ জন লোক পানিতে তলিয়ে মারা যায়। স্লুইচগেটটি বন্ধ থাকার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই গ্রামের লোকজনের টানাটানিতে স্ল্যুইচগেটের ফটক খোলা সম্ভব হয়নি। সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা ফটক খুলে দিতে বললে নিচিন্তাপুরের বাসিন্দারা খুলতে মানা করে। আমরা নিরুপায়।
স্লুইচগেট খোলা না খোলা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একাধিকবার বাগবতিণ্ডা হয়েছিল। তিনি জানান, স্লুইচগেটের পাশে নির্মাণ করা ফ্লাড বাইপাস ছোট হওয়ার কারণে পানি ছাড়লে নামতে সময় লাগে। ফ্লাড বাইপাস বড় করে খালের মুখটি খনন করলে এই সমস্যা হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া বলেন, স্লুইচগেটের সমস্যার বিষয়টি আগে জেনেছি। মঙ্গলবার এটি খুলে দেয়া হয়েছে। অন্য এলাকার মানুষের অসুবিধা হলে এটি আবার বন্ধ করা হবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, স্লুইচগেট খুলে দিতে দুই ইউপি চেয়ারম্যান আমার কাছে আবেদন করেছিলেন। আমি এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দেখার জন্য বলি। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে দুই ইউনিয়নের নিচু এলাকা ও রাস্তা ডুবে ভেঙে যাচ্ছে। জনসাধারণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে খুলে দেওয়া হয়। পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে অন্য এলাকার লোকজন অসুবিধায় পড়লে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে বর্ষার আগে খুলে দিলে হয়তো এই সমস্যাটা হতো না।
উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের কুরমাই খালে ১৯৮২ সালে স্লুইচগেট ও পাশে ফ্লাড বাইপাস নির্মাণ করা হয়।

x