রাঙামাটিতে এখনও ১৫ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

পাহাড় ধসের এক বছর পুর্তি আজ

বিজয় ধর, রাঙামাটি

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
14

ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনার পরও রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, রাঙামাটি পৌর এলাকায় ৬০৯ পরিবার ও দশ উপজেলার ২৭৬৯ পরিবারসহ প্রায় ১৫ হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। একটু বৃষ্টিপাত হলে তাদের ভয় আর আতংকের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। গেল বছর ১৩ জুন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত হন আরো ১৯২ জন। ভয়াবহ এই পাহাড় ধসের পরও রাঙামাটি পৌর এলাকা শিমুলতলী, রুপনগর, ইসলামপুর, ভেদভেদী এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় কয়েকশ পরিবার ঝুকিঁপূর্ন অবস্থায় বসবাস করছে। তবে ইতোমধ্যে এসব এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বসবাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের হিসেব মতে, ২০১৭ সালের পাহাড়ধসে পুরো জেলায় ১৮ হাজার ৫৫৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘটনার পর প্রশাসন ঝুঁকিপুর্ণ স্থানে বসবাসকারী প্রায় আড়াই শত পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় দেয়। প্রায় তিন মাস আশ্রয়ে রাখার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে এসব পরিবারকে কোন প্রকার পুনর্বাসন না করে যার যার স্থানে পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ি জেলাটিতে পাহাড়ের ঢালে বা খাঁজে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়িবাঙালিরা ঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছে। সে কারণে অতীতে কখনও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও বসতি চিহ্নিত করা হয়নি। গত বছর পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করা হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। প্রশাসন কয়েকদিন ধরে তৎপরতা চলাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে সরে যেতে বলা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত মানুষদের।

এদিকে রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ। এসময় তিনি পাহাড় পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নিদের্শ দেন। এসময় রাঙামাটি শহরের শিমুল তলী এলাকার ৬টি পরিবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাঙামাটি সেন্টারে ও রাঙাপানি এলাকার ৩টি পরিবার মোনঘর ভাবনাকেন্দ্র আশ্রয় নেয়।

আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আশেপাশে নিরাপদস্থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। যাতে মানুষ সহজে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারে। এদিকে মঙ্গলবার বিকালে রাঙামাটি শহরের রুপনগর এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় এখনো অনেক মানুষ বসতভিটায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। রুপনগর এলাকার নুরুন্নেছা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখানে প্রায় ৪৫ পরিবার আছি। ঝুঁকিতে থাকলেও নিজ বাড়ি ছেড়ে আমরা কোথায় যাবো। আরেক বাসিন্দা নীলু বেগম ও তার মেয়ে জোছনা আক্তার বলেন, আমরা রাতের বেলায় তাঁবুতে আশ্রয় নেই এবং দিনের বেলায় বাসায় থাকি।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, নতুন করে যাতে পাহাড়ের খাঁজে বা ঢালে ঝুঁকি নিয়ে কেউ বসতি করতে না পারে সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখছি। আর যারা পাহাড়ের ঢালুতে বসবাস করছে তারা যাতে সেখান থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করে এজন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে যাতে তারা নিরাপদে থাকতে পারে সে জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

x