রাউজানে ঘরে চুলা জ্বলে না আশ্রয় শিবিরে লঙ্গরখানা

রাউজান প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
44

রাউজানের ৬ লাখ মানুষ গত তিনদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। অমাবস্যা তিথির প্রভাবে জোয়ারের বর্ধিত পানি পাহাড়ি ঢলের সাথে যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি আরো বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার উত্তর অংশের পাঁচটি ইউনিয়নের মত দক্ষিণ রাউজানের প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘর হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়েছে। পানি স্রোতের তীব্রতায় ভেসে গেছে কয়েকশ’ চাষের পুকুরের মাছ। উপজেলার চিকদাইর এলাকার সবচেয়ে বড় মৎস্য হ্যাচারিটির (সোনালী) প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। হ্যাচারি মালিক উজ্জল দাশ গুপ্ত বলেছেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ক্ষতি থেকে রক্ষায় তিনি কিছু ব্যবস্থা রেখেছিলেন। পাহাড়ি পানির প্রবল স্রোতে তার সব ব্যবস্থা অকার্যকর করে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, স্রোতে টানে তার এলাকার একটি খামারে শতাধিক মুরগি ভেসে গিয়ে মারা গেছে।

দুর্গত লোকজন বলেছেন, গত তিন দিন থেকে অনেক পরিবারে চুলায় হাঁড়ি বসেনি। শুকনা জায়গা না থাকায় অনেকে গবাধি পশু নিয়ে আছেন বিপাকে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে। তারা সেখানেই ইফতার সেহ্‌রি খাচ্ছেন। বিরাজমান আবহাওয়ায় কবে নাগাদ বাড়ি ফিরতে পারবেন তাও কেউ ভাবতে পারছেন না। জানা গেছে, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বিভিন্ন এলাকা ও আশ্রয় শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন। তাঁর নির্দেশে আশ্রয় শিবিরগুলোতে লঙ্গরখানা খুলে আশ্রিতদের খাবার দিচ্ছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানমেম্বাররা।

রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দর চৌধুরী উপজেলার আশি শতাংশ রাস্তাকালভার্ট বিধ্বস্ত হতে পারে বলে আশংকা করছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্গতদের জন্য এলাকার সাংসদ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লাখ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে এক লাখ টাকা প্রদান করেছেন। এই টাকার সাথে উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দ দেয়া পাঁচ লাখ টাকাসহ দুর্গতদের সহায়তায় দেয়া হয়েছে ২০ টন খাদ্যশস্য।

রাউজানের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী আজাদীকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসে সাজানো রাউজানকে তছনছ করে দিয়েছিল। এক বছর ধরে কাজ করার পর যখন স্বস্তির নিঃশেষ ফেলতে যাচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ে ঈদের আগে আবারো প্রাকৃতি দুর্যোগের শিকার হল রাউজানের মানুষ। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য দুর্গত মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন বলে তিনি জানান।

x