রহস্যময় মঙ্গল

রেজাউল করিম

বুধবার , ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
107

চাঁদ আর মঙ্গল গ্রহ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্ত নেই। তারা মঙ্গলে প্রাণের খোঁজ শুরু করেছেন ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই। মঙ্গল বসবাসের উপযোগী কিনা এ নিয়েও চলছে নানা গবেষণা। মঙ্গল গ্রহের সাথে পৃথিবীর তুলনামূলক মিল থাকায় এখানে জীবন খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলছে জ্যোতির্জীববিজ্ঞানীরা। এখন অব্দি অবশ্য মঙ্গল গ্রহে কোনো জীবনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ক্রমবর্ধিষ্ণু একাধিক প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাচীনকালে এই গ্রহে তরল পানির উপস্থিতি ছিল। যা গ্রহটিতে আণবিক জীবন থাকার সম্ভাব্যতাকে বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এতেই নিশ্চিত করে বলা যায় না বর্তমানেও গ্রহটিতে প্রাণ বা জীবন বিদ্যমান।
হু হু করে বাড়ছে পৃথিবীর জনসংখ্যা। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সঙ্কট বাড়ছে প্রতিদিন। বিপদ আগেই টের পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাই বিকল্পের সন্ধান চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। তাতে কিছুটা সাফল্যও পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলই হতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। সেখানে বসতি তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।
২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর নাসা গ্রহটির প্লানিটিয়া ইউটোপিয়া অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ বরফের সন্ধান পেয়েছে বলে ঘোষণা করে। এতে যে পরিমাণ পানি পাওয়া গিয়েছে তা প্রায় সুপিরিয়র হ্রদের পানির সমান। ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞানীরা রিপোর্ট করেন যে কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে বোরনের সন্ধান পেয়েছে, যা পৃথিবীর জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের মধ্যে একটি। এরপূর্বে পাওয়া পানির সন্ধান মঙ্গলে পূর্বে একদা জীবনের অস্তিত্ব ছিল বলেই সমর্থন করে।
১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের সভ্য উইলিয়াম হিউযেল মঙ্গল গ্রহে সমুদ্র, মাটি এমনকি প্রাণের সম্ভাবনা আছে বলে তত্ত্ব প্রদান করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে মঙ্গলে প্রাণের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করার হার হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এই সময়ে একাধিক পর্যবেক্ষক মঙ্গলে খাল পর্যবেক্ষণ করেন। যা পরবর্তীতে অবশ্য দৃষ্টিভ্রম বলে প্রমাণিত হয়। মার্কিন বিজ্ঞানী পার্সিভাল লোওয়েল ১৮৯৫ সালে মঙ্গল গ্রহ ও ১৯০৬ সালে মঙ্গল গ্রহও এর খাল নামক বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ে তিনি মঙ্গলে দীর্ঘকাল আগে বিরাজ করা সভ্যতা এই খালগুলো সৃষ্ট বলে তিনি দাবি করেন। এই ধারণাই ব্রিটিশ লেখক হারবার্ট জর্জ ওয়েলসকে দ্যা ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস নামক কল্পকাহিনী রচনায় অনুপ্রাণিত করে। এই গল্পে মঙ্গলগ্রহ থেকে আগত ভিনগ্রহবাসীরা নিজেদের গ্রহ দুর্যোগের কবলে পাড়ায় পৃথিবী দখলের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। পরবর্তীতে উন্নত দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার হলে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে প্রচলিত এই খাল তত্ত্ব বাতিল হয়ে যায়। পরিবেশের উপাদান হিসেবে তরল পানির উপস্থিতি মঙ্গল গ্রহে জীবন থাকার জন্য অন্যতম উপাদান। তবে শুধুমাত্র তরল পানির উপস্থিতিই গ্রহটিতে জীবন আছে বলে নিশ্চিত করতে পারে না। মঙ্গলের ভূমণ্ডলে তরল পানি অবস্থান করতে পারেনা। সর্বনিম্ন উচ্চতার ভূমিতে তরল পানি মাত্র কয়েক মিনিট অথবা ঘণ্টা থাকতে পারে। তরল পানি ভূপৃষ্ঠে উপস্থিত থাকতে পারেনা। কিন্তু এর পৃষ্ঠে যে ধূলিকণার সাথে অল্প পরিমাণ যে তুষার কণা তৈরি হয়, সূর্যের তাপে তা বিগলিত হয়ে এই পানি স্বল্প সময়ের জন্য তৈরি হতে পারে। এছাড়াও প্রাচীন কালের নিরক্ষীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ বরফ ধীরে ধীরে গলে এই তরল পানির উপস্থিতি নিয়ে আসতে পারে। নাসার একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলেছেন, মঙ্গলগ্রহে প্রথম অবতরণকারী একজন নারী হওয়া উচিত। অ্যালিসন ম্যাকলিনটায়ার নামে ঐ বিজ্ঞানী বলছেন এতদিন পর্যন্ত যত জন চাঁদে গেছেন তাদের ১২ জনই ছিলেন পুরুষ। তার মতে, মেয়েদের সামনে আনা উচিত এবং যেদিন কোন মানুষকে তারা মঙ্গল গ্রহে পাঠাবেন, তার নারীই হওয়া উচিত। টেঙাস এবং ফ্লোরিডাতে নাসার ‘বিহাইন্ড দ্যা সিন’ তৈরি করছে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভ। মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানে মরিয়া বিজ্ঞানীরা। রহস্যের কূল কিনারার শেষ নেই।

x