রহস্যময় ভৌতিক অরণ্য

আরিফ রায়হান

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
180

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারমন্টে অবস্থিত এই স্থানটি পৃথিবীর সেরা রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ভৌতিক স্থানের নামকরণ করেন প্যারানরমাল গল্প লেখক জোসেফ এ সিত্রো। অরণ্যেঘেরা এই অঞ্চলটি ভয় ও নানা রহস্যে ভরপুর। প্রচলিত আছে, এই অরণ্যে শোনা যায় অদ্ভুত সব আওয়াজ, অনেকে বনের মধ্যে পথ হারিয়ে আর ফিরে আসে নি, আবার কেউ কেউ ফিরলেও তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেন নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অরণ্যে নাকি অশুভ শক্তির ভয়ংকর প্রভাব রয়েছে। যে কারণে এখানে একের পর এক রহস্যজনক ঘটনা ঘটছে।
এদিকে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের এসব ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা, রচিত হয়েছে অনেক বই। এতো কিছুর পরও খোঁজ মেলেনি হারানো মানুষদের। বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের ঘটনা আরো বেশি ভয়াবহ যেখানে ভিন্ন গ্রহের যান, অদ্ভুত আলো, শব্দ, গন্ধ ও অদ্ভুত প্রাণী দেখা যাওয়ার ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সেই সাথে মানুষের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা তো আছেই। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে ঘটেছিল এমন কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা এখনো কোনো সার্চ টিম বা তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কীভাবে একের পর এক এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল তা আমরা জেনেই নিই: ১৯৪৫ সালের ১২ নভেম্বর এই দিনে ৭৫ বছর বয়সী মিডি রিভার্স ৪ জন শিকারিকে নিয়ে পর্বতে গেলেন শিকারের জন্য। দলটি যখন ফিরে আসছিল তখন লঙ ট্রেইল রোড ও ৯ নম্বর রুটের কাছাকাছি এসে রিভার্স তার দলের সাথীদের চেয়ে কিছুদূর সামনে এগিয়ে যান। এরপর তিনি উধাও হয়ে যান। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা চিরুণি অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁেজ পায়নি। এর এক বছর পর ১৯৪৬ সালের ১ ডিসেম্বর ১৮ বছরের তরুণী পলা ওয়েল্ডেন ঘুরতে ঘুরতে বনের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেলেন। তাকে খুঁজে পেতে তদন্ত শুরু হলো। ৫ হাজার ডলারের পুরষ্কার ঘোষণা ও এফবিআই’র তদন্ত সত্ত্বেও পলাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। ১৯৫০ সালের অক্টোবরের ১২ তারিখে ৮ বছর বয়সের পল জেপসন বেনিংটন ব্ল্যাকহোলের শিকারে পরিণত হয়। শিশুটি হারিয়ে যাবার পর পুলিশের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর তার গন্ধ শুঁকে শুঁকে কিছুদূর গেলেও তার সন্ধান দিতে পারেনি। দুই সপ্তাহ পরে অক্টোবরের ২৮ তারিখ ফ্রিডা ল্যাঙ্গার তার চাচাত ভাই হার্বার্ট এলসনারের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিল। পথে একটি ছোট নদীতে পড়ে গেলে ফ্রিডা হাবার্টকে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে বলে পোশাক পরিবর্তনের জন্য ক্যাম্পে ফিরে যায়। অনেকক্ষণ হয়ে যাবার পরও ফ্রিডা ফিরে না এলে হাবার্ট তাকে খুঁজতে ক্যম্পে ফিরে যায়। কিন্তু গিয়ে দেখলো ফ্রিডা সেখানে নেই। আবার কেউ ফ্রিডাকে বন থেকে বের হতেও দেখে নি। আর ফ্রিডা পুরো জায়গাটি খুব ভালভাবে চিনতো। দিনের আলোতেই সে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল। অনুসন্ধানী দল প্লেন ও হেলিকপ্টারে করে তাকে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হল কিন্তু অভিযান নিষ্ফল। নভেম্বরের ৫-১২ তারিখ পর্যন্ত ৩০০ সেনা, পুলিশ, শিক্ষার্থী মিলে ফ্রিডাকে খুঁজলো। কিন্তু সবাই ব্যর্থ হন।
বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে কেন এমন সব ঘটনা ঘটছে? এ নিয়ে প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা তাদের নানা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নেটিভ আমেরিকানরা গ্লসটেনবারি মাউন্টেনের আশেপাশের এলাকাটি ‘অভিশপ্ত ভূমি’ বলে মনে করেন। এলাকাটিতে বসবাস স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় অধিবাসীদের এক অংশের অভিমত, পাহাড়ের পেছনের আকাশে প্রায় সময়ই এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক মাদকতাময় গন্ধ আর মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা অদ্ভুত ধ্বনি। স্থানীয় কারো কারো মতে, এক বিশাল দৈত্যাকার প্রাণীর বাস রয়েছে জঙ্গলটিতে। এই প্রাণীটির হঠাৎ আক্রমণের শিকার হয় অভিযাত্রীরা। অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানটিতে বাস্তব চেনা ত্রিমাত্রিক জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কেউ এই জগতে প্রবেশ করতে গেলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আবার অনেকের মতে, ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের অবস্থান রয়েছে এই বেনিংটন টায়াঙ্গল জঙ্গলে, তাদের কারণেই ঘটছে এসব অস্বাভাবিকতা। আরেকটি মত হচ্ছে, বনের ভেতর হয়তো কোন সিরিয়াল খুনি রয়েছে। তবে তাই যদি হয় তাহলে এতো লাশগুলো কোথায়? তার উত্তর এখনো অজানাই থেকে গেল।

x